জিকরুল হক, উত্তরাঞ্চল সংবাদদাতা: নীলফামারীর সৈয়দপুরে উত্তরবঙ্গের স্বনামধন্য এক চালকল মালিককে অনৈতিকভাবে হয়রানি করায় সৈয়দপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
নীলফামারী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভ‚ইয়াকে দেয়া হয়েছে ওই অভিযোগ। অভিযুক্ত ওই খাদ্য কর্মকর্তার নাম মাহমুদ হাসান (অতিরিক্ত দায়িত্ব)। মঙ্গলবার দুপুরে এ অভিযোগ করেন সৈয়দপুর উপজেলার মেসার্স আফজাল অটোরাইস মিলের মালিক মো. নওশাদ খান রাজা। এদিনই জেলা চালকল মালিক সমিতির একটি প্রতিনিধি দল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে দেখা করে দ্রæত ওই কর্মকর্তাকে জেলা থেকে বদলীর দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় তারা সরকারের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করবে এবং প্রয়োজনে মানহানি মামলা দায়ের করবেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি সামসুল হক।
মেসার্স আফজাল অটোরাইস মিলের মালিক তার অভিযোগে বলেন, বোরো মওসুমে সৈয়দপুর খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আফজাল অটোরাইস মিলের তিনটি ইউনিটের মোট ১৯২১ দশমিক ১০০ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করার চুক্তি সম্পাদন করা হয়। স্থানীয়ভাবে ধান সংগ্রহ করে ছাঁটাইকৃত চাল আভ্যন্তরিণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা ২০১৭ অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুদামে চাল দেয়া হয়। সরকারি সিদ্ধান্ত মতে চুক্তিকৃত চাল ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরবরাহ করতে হবে। কিন্তু সরকারের বেধে দেয়া দিনক্ষণের পূর্বে ১৩ সেপ্টেম্বর সৈয়দপুর খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করার মধ্য দিয়ে চুক্তির সমস্ত চাল পরিশোধ করা হয়। এদিনের চালগুদামে খামাল দেয়ার সময় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অ.দা.) মাহমুদ হাসান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। চাল সরবরাহ শেষে এদিনই কর্তৃপক্ষ আমাদের দেনা পাওনা পরিশোধ করেন। দেয় টাকার চালানপত্রে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহমুদ হাসান ও খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফজলুল হক মিলে যুক্ত স্বাক্ষর করেন।
অথচ ওই উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিকাল বেলা আমার মিলের লাইসেন্স বাতিল করার জন্য পত্র দেন। তিনি তার পত্রে উল্লেখ করেছেন বিধিমালা অনুসরণ না করেই খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি মেসার্স আফজাল অটোরাইস মিলের সরবরাহকৃত চাল আমদানি করা চাল বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ ২০১৭ সাল হতে বর্তমান বছর পর্যন্ত চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। ওই কর্মকর্তা তার দূর্ভিসন্ধি চরিতার্থ করতেই এই হয়রানিমূলক লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে পত্র প্রেরণ করেছে। যা আইনতঃ পুরোপুরি অবৈধ। লাইসেন্স দেন জেলা প্রশাসক। তিনি লাইসেন্সেও দিতে পারেন না এবং বাতিলও করতে পারেন না। ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাইতেই নীলফামারী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে অভিযোগ করা হয়েছে।
মেসার্স আফজাল অটোরাইস মিলের মালিক মো. নওশাদ খান রাজা আরো বলেন, ২৬১৩ মেট্রিক টন চাল বোরো মওসুমে খাদ্যগুদামে সরবরাহ করার জন্য ৫টি অটোরাইস মিল ও ১৭টি হাসকিং মিল চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এর মধ্যে মেসার্স আফজাল অটোরাইস মিলের তিনটি ইউনিট হতে ১৯২১ দশমিক ১০০ মেট্রিক টন, ইউনিক অটোরাইস মিল ২৮১ দশমিক ৪৯০ মেট্রিক টন ও সানি অটোরাইস মিল ২১১ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন চাল খাদ্যগুদামে সরবরাহ করে। সরকারের বেধে দেয়া চালের মূল্যের চেয়ে খোলা বাজারে চালের দাম কেজি প্রতি ৭ টাকা বেশি হওয়ায় হাসকিং মিল মালিকরা চাল সরবরাহ করেনি। সরকারকে সহযোগিতা করতে মোট সরবরাহকৃত চালের শতকরা ৯৫ ভাগ চাল মেসার্স আফজাল অটোরাইস মিল থেকে খাদ্যগুদামে দেয়া হয়েছে।
তার মতে, সরকার প্রতি কেজি চালের মূল্য দিচ্ছেন ৩৬ টাকা। অথচ এই মানের চাল খোলা বাজারে ৪৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজিতে ৭ টাকা ক্ষতি করেও বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করতে চাল সরবরাহ করা হয়। বাজার মূল্য অনুযায়ী মেসার্স আফজাল অটোরাইস মিলের সব মিলে কমপক্ষে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। তারপরও ওই কর্মকর্তা লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে চিঠি দিয়েছি। তবে গতকাল বুধবার ইউসিএফের দেয়া পত্রের জবাব দেয়া হয়েছে।
এদিকে ওই কর্মকর্তা কর্তৃক আমদানিকৃত (এলসি) চালের অভিযোগের বিষয়ে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের কাস্টমসের সহকারী কমিশনার সাইদুল আলম ও লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরের কাস্টমস কমিশনার সুমেন কান্তি চাকমার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলা হলে তারা জানান, এ বছরও কোন ধরনের চাল আমদানি করা হয়নি। কথা হয় মুঠোফোনে বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি সামসুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন লাইসেন্স বাতিল করার ক্ষমতা ওই কর্মকর্তা রাখেন না। এটি হয়রানি করা ছাড়া অন্য কিছু নয়।
অভিযুক্ত উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহমুদ হাসান মুঠোফোনে বলেন আমি যা করেছি আইনসম্মতভাবে করেছি। নীলফামারী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভ‚ইয়ার সঙ্গে অভিযোগ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন আমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ শুনেছি। প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
