নিজস্ব সংবাদদাতা, ভোলা;  ত্রাণে অনিয়মের তদন্তে সাক্ষ্য প্রদানের সহায়তার অভিযোগ এনে মনপুরা উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের সদ্য বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান আমানউল্লাহ আলমগীর বাহিনীর হামলায় মনপুরা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়াড আওয়ামীলীগ এর সভাপতি গোপাল দাস সহ ৪ জন আহতের ঘটনা ঘটেছে। ১ লা মে সন্ধায় ইউনিয়নের রামনেওয়াজ বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহত অন্যরা হলেন সৈকত, সাত্তার, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি লোকমান হাওলাদার।
হামলায় আহত গোপাল দাস ও সৈকত মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। আহত সাত্তার ও লোকমান হাওলাদার প্রাথমিক চিকিৎসক নিয়ে বাসায় গিয়েছেন।

হামলায় আহত গোপাল দাস বলেন পহেলা মে সন্ধ্যা সাতটার দিকে আমি রামনেওয়াজ বাজারে অবস্থান করছিলাম। তখন চেয়্যারমান আলমগীরের ভাই মিজান ও সাহাবুদ্দিন আমাকে এসে বলে তুমি ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছে সাক্ষী দিয়েছে কেন? একথা বলে আমাকে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। তখন হইচই শুনে সৈকত, সাত্তার ও লোকমান হাওলাদার আমাকে বাচাতে এগিয়ে আসে। তারপরেই বাজারে ওৎপেতে থাকা চেয়্যারমানের লোক সালাম, আতিক, নাহিদ,গিয়াসউদ্দিন, এনায়েত, হেলাল, মূছা সহ আরো ১০-১৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের অপর আবারো হামলা করে ও আমাদের আহত করে। আমাদের চিৎকারে লোকজন জরো হয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
আহত গোপাল দাস আরো বলেন হামলায় সময় সদ্য বহিষ্কৃত চেয়্যারমান আলমগীর বাজারেই অবস্থান করেছিলেন এবং তার নির্দেশেই হামলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে আমানত উল্লাহ আলমগীরের সাথে মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেস্টা করেও সম্ভব হয়নি।

এই ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, দুই চেয়ারম্যান সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে। রামনেওয়াজ বাজারে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি।

এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ার ১৯০ কিলোমিটার নদীতে দুই মাস ইলিশ ধরা বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারিভাবে নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলেকে চার মাসে ৪০ কেজি করে ১৬০ কেজি চাল দেয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি-মার্চে ৮০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা। কিন্তু ৩০ কেজি করে চাল দেন ইউপি চেয়ারম্যান আমানত উল্যাহ আলমগীর। জেলেদের অভিযোগের কারনে জেলা প্রশাসকের র্নিবাহি ম্যাজিস্টেট সরেজমিনে মনপুরা গিয়ে তদন্ত করে আসেন। তদন্ত রিপোট দাখিলের পর গত ৩০ এপ্রিল স্থানীয় সরকার শাখা থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এ ছাড়া চেয়ারম্যান আমানত উল্যাহ আলমগীরের বিরুদ্ধে জেলেদের কাছ থেকে চাদাবাজীর অভিযোগ রয়েছে।

আমাদের বাণী ডট কম/০৩ মে ২০২০/সিসিএ 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।