বান্দরবানের থানছি উপজেলার সাধারণ জনগণ ও সরকারী কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন যাবৎ পরিবহণ সেক্টরের একটি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে আছে।
জানা যায়, ২০০৩ সাল থেকে এই উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়ন থেকে কিছু নিম্ন মানের জীপ (চাঁন্দের গাড়ি) দিয়ে থানছি- বান্দরবান রুটে গাড়ি চলাচল শুরু হয়।২০০৫ সাল থেকে থানছি উপজেলা সদর থেকে সরাসরি এই ফিটনেসহীন গাড়ি গুলো বান্দরবান পর্যন্ত যাত্রী পরিবহণ করতে থাকে।দীর্ঘদিন এই মৃতপ্রায় গাড়ি গুলোতে চলাচল করতে করতে একসময় থানছি উপজেলার সাধারণ জনগণের দাবীর প্রেক্ষিতে কিছু সংখ্যক বাস চালু করে শৈলসভা মালিক সমিতি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, থানছি-বান্দরবান রুটে যে বাস গুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো প্রায় ২০ বছরের পুরোনো ইন্জিনে নতুন বডি সেটিং করে সেগুলোতে রং লাগিয়ে চকচকে করে রাস্তায় চলাচল করার জন্য নামানো হয়েছিলো।বর্তমানে সে বাস গুলোর গুলোর অবস্থা একেবারে নাজুক।
এই বিষয়ে থানছি উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাংসার ম্রো জানান,বর্তমানে থানছি-বান্দরবান রুটে নিয়মিত যে বাস গুলো চলছে, সেগুলোর এতটায় খারাপ অবস্থা কোন সুস্হ মানুষ যদি এই বাস গুলোতে যাতায়াত করে তাহলে সে অনেকটায় অসুস্থ হয়ে যায়।তিনি বলেন এই গাড়ি গুলো অপসারণ করে দ্রুত মান সম্মত চালু করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরণের কোনো দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি স্বপন কান্তি বিশ্বাস বলেন, এই বাস গুলো কে আর বাস বলার সুযোগ নেই।তবুও জনগণ নিরুপায় হয়ে এই এগুলোতে চলাচল করছে।তিনি মালিক সমিতির কাছে নতুন বাস চালু করার আহবান জানান।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান চসাথোয়াই মার্মা বলেন,এই রুটে চলাচলকারী বাসের মালিকরা এখানকার মানুষ কে আর মানুষ ই মনে করেন না।ফিটনেসহীন গাড়ি গুলো দিয়ে তারা যাত্রী সেবার নামে প্রতিনিয়ত যাত্রী দের হয়রানী করছে।তিনি আরো বলেন পরিবহণ সিন্ডিকেট নেতারা এতটায় ক্ষমতাধর তাদের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রতিবাদ করার কেউ সাহস করতে পারেনা।
উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন,প্রায় প্রত্যক টা গাড়ির সিট গুলো ভাঙ্গা,জানালার কাঁচ জোড়াতালি দেওয়া এবং বসার সিট একটির থেকে অন্যটির দূরত্ব এতটায় কম যে, পা রাখতে গেলে অন্য সিটের সাথে পায়ের ঘষা লেগে অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।তারা আরো বলেন অতিদ্রুত এই বাস গুলোর পরিবর্তন করে নতুন বাস সংযোজন করা প্রয়োজন। এবং চালক ও তার সহকারী রা যেরকম অশালীন ভাষায় কথা বলেন এই বিষয় টাতে ও নজর দেওয়া দরকার।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনিল ত্রিপুরা বলেন,থানছি বর্তমানে পর্যটনে খাতে দেশের বিভিন্ন স্হানে পরিচিত একটি নাম।একটি সিন্ডিকেট পরিবহণ সেবার নামে এখানকার যাত্রীদের এবং পর্যটকদের জিম্মি করে অধিক মুনাফা লাভের জন্য বছরের পর বছর থানছি-বান্দরবান রুট টাকে জিম্মি করে রেখে দিয়েছে।এর একটা প্রতিকার হওয়া দরকার।
উপজেলার বাসিন্দা এ্যাডভোকেট উবাথোয়াই মার্মা বলেন,উন্মুক্ত বাজার অর্থনীতি তে সবার ই প্রতিযোগীতা করার সুযোগ আছে।তবে থানছি উপজেলার পরিবহণ সেক্টরে এটা প্রযোজ্য নয়।এখানে পরিবহন খাতে ব্যাবসা করার অধিকার শুধু মাত্র একটি মাত্র কয়েকজন মানুষের হাতে।তাদের কে গাড়ি পরিবর্তন করতে বললে তা ও তারা করবে না আবার নতুন কেউ এসে এই খাতে ব্যাবসা করতে চাইলে তাদের ও নানান ভাবে বাধা দেওয়া হয় বলে শুনেছি।
থানছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক মৃদুল বলেন,এখানে আমাদের খুব বেশী কিছু করার নেই।তবে নতুন মান সম্মত গাড়ি এই রুটে সংযোজিত হলে সেটা সেটা সবার জন্যই বেশ উপকারে আসবে।সেই সাথে পর্যটন শিল্প বিকাশে এই উপজেলা আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।
এই বিষয়ে শৈলসভা মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
