দেশের মাধ্যমিক স্তরের (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি) ৩৭ শতাংশ শিক্ষক বাজার থেকে কেনা নোট-গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাদের ২২ দশমিক ৪ ভাগ নিজের বাসায় অর্থের বিনিময়ে প্রাইভেট পড়ান। প্রশ্ন তৈরি করতে পারেন না বেশিরভাগ শিক্ষক। ১৪ দশমিক ৪ ভাগ শিক্ষক সরাসরি শিক্ষক সমিতি বা খোলাবাজার থেকে প্রশ্নপত্র কিনে পরীক্ষা নেন নিজ স্কুলে। শিক্ষা বিষয়ক এনজিও ব্যবসায়ী গণসাক্ষরতা অভিযান পরিচালিত ‘এডুকেশন ওয়াচ ২০১৮-২০১৯’-এর প্রতিবেদনে মাঠ পর্যায়ের এমন চিত্রই উঠে এসেছে। গত ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষার উন্নয়নের কথা বলে বিদেশ থেকে হাজার কোটি ডলার এনেছে গণসাক্ষরতা অভিযান। সময় সময় তারা এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, শিক্ষকতাকে সবচেয়ে সম্মানজনক পেশাগুলোর একটি ভাবা হলেও পেশা, প্রতিষ্ঠান ও সম্মানী—এই তিনটি মিলিয়ে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার মাত্র ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষক সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বাকি ৭৩ শতাংশ শিক্ষকই নিজেদের পেশা নিয়ে সন্তুষ্ট নন। অন্য কোনও চাকরি না পেয়ে শিক্ষকতায় এসেছেন ৪২ শতাংশ। এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষক তাঁদের বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আর শিক্ষকতা পেশা ছাড়তে চান ৫ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষক। তবে পেশা, প্রতিষ্ঠান ও সম্মানী মিলিয়ে তুলনামূলকভাবে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে সন্তুষ্টি বেশি। তাঁদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ তিনটি ক্ষেত্রেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

গত রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গণসাক্ষরতা অভিযান। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। সরকারি, এমপিওভুক্ত এবং নন-এমপিও- এই তিন ধরনের শিক্ষকদের বেতন কাঠামো বিশ্নেষণ করে ‘এডুকেশন ওয়াচ ২০১৮-২০১৯’ প্রতিবেদনে এমন তথ্যই তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, সরকার সব শিক্ষার্থীকে নিখরচায় পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করেছে। শিক্ষণ-শিখন মূলত শ্রেণিকক্ষেই হওয়া উচিত। তা সত্ত্বেও শিক্ষকদের গাইডবই ব্যবহার এবং গৃহশিক্ষকতায় অংশগ্রহণের প্রবণতা কমেনি। ২২ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষক গৃহশিক্ষকতায় (বাসায় কোচিং) জড়িত। তারা গড়ে ২৩ দশমিক ৩ জন শিক্ষার্থীকে পড়ান। গৃহশিক্ষকতায় ব্যাপক ব্যবধান রয়েছে। তারা একজন থেকে শুরু করে ২৩০ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থী পড়ান।

সরকারি বিদ্যালয়ের ১৭ দশমিক ১ শতাংশ, বেসরকারি বিদ্যালয়ের ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ, স্কুল ও কলেজ ২৪ দশমিক ২ শতাংশ, দাখিল মাদরাসার ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ, উচ্চতর মাদরাসার ২০ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষক গৃহশিক্ষকতায় জড়িত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।