ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা;  প্রায় সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে জীবনঘাতি করোনাভাইরাস। দেশে প্রতিদিনই করোনাভাইরাসের আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। আজ পর্যন্ত দেশে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আট হাজার ২৩৮ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন  ১৭০ জন। এই অদৃশ্য ভাইরাসের কারণে সারাদেশে চলছে লকডাউন। এখনো সচেতন হননি নগরবাসী। নানা অজুহাতে ঘর থেকে বের হচ্ছেন তারা।

লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যেও রাজধানীর সড়কে প্রতিদিনই বাড়ছে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা। বিভিন্ন জায়গাও লোক সমাগম  হচ্ছেন। পোশাক কারাখানা, রেস্টুরেন্ট খুলার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘর থেকে বের হওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই ঘুরাফেরা করছেন অনেকেই।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে দেশের অর্থনীতি সচল রাখতেই পর্যায়ক্রমে দেশের লকডাউন শিথিল করার ঘোষণা এসেছে সরকারের পক্ষ থেকে।

অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যেই কাজ শুরু হয়ে গেছে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে। এক মাস ছুটির পর ঝুঁকি নিয়েই কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকেরা। এত দিন শহরের তেমন শোরগোল না থাকলেও পোশাক কারাখানা ও রেস্টুরেন্ট খুলার পর থেকেই ফিরে আসে পুরোনো চেহারায়।

এমন পরিস্থিতে অনেকের মনে প্রশ্ন তাহলে কি ধীরে ধীরে লকডাউন উঠে যাচ্ছে?

এই অবস্থায় লকডাউন শিথিল করা হলে ভয়ংকর বিপর্যের আশঙ্কা করছেন বিশেজ্ঞরা। করোনাভাইরাসের আক্রান্ত সংখ্যা কমার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লকডাউন তুলে নিয়েছেন। বাংলাদেশেও সেই পথে হাটার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসার পরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লকডাউন শিথিল ও লকডাউন তুলে নিয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ হাটছে ভিন্ন পথে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হার এখনো উর্দ্ধমুখী। তাই লকডাউন শিথিল করার আগে সরকারকে আরও কৌশল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মোজেহেরুল হক (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা) বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যখনই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে তখন লকডাউন জারি করেছে। আবার যখনই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে এসেছে তখনই লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে সংক্রমণ এখনো কমেনি বরং বাড়ছে। এই মুহূর্তে লকডাউন শিথিল করা হলে বাংলাদেশেন জন্য ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস ঘেব্রেয়েসাস বলেছেন, এখনই লকডাউন তুলে নিলে করোনাভাইরাস মহামারী আবারও ভয়াবহ রুপ নিতে পারে। তাই এখনই মানুষের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সরকারগুলো কোনো পদক্ষেপ নিলে তাই হবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দীর্ঘ সময় পৃথিবীর মানুষকে লড়াই করতে হতে পারে। এই রোগটি ‘দীর্ঘ সময় আমাদের সাথে থাকবে।

তিনি সতর্ক করেছেন যে লকডাউন প্রত্যাহার করে নিলে সংক্রমণ আবারো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বকে সঠিক সময়ই এই মহামারি সম্পর্কে অবগত করতে পেরেছে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ঘরে থাকার আদেশ এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করার জন্য নেয়া পদক্ষেপের কারণেই সংক্রমণের হার কমে গেছে।

কোনো দেশে লকডাউন তুলে নিতে হলে ছয়টি শর্ত দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা:

১. ভাইরাসটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসা। ২. স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন আক্রান্ত দ্রুত সনাক্ত, পরীক্ষা, বিচ্ছিন্ন এবং চিকিৎসা করার পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগগুলির সন্ধান করার ক্ষমতা রাখা। ৩ . করোনার ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা করা। ৪ . কর্মক্ষেত্র, স্কুল এবং দোকানগুলোতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা স্থাপন করা। ৫ . ভাইরাসের আমদানি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা করা। ৬ .পুরো সম্প্রদায়কে শিক্ষিত করতে হবে এবং নতুন নিয়মের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে।

আমাদের বাণী ডট কম/০১ মে  ২০২০/পিপিএ 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।