‘ বাংলাদেশ আজ ধর্ষণকারীদের দ্বারা অবরুদ্ধ, ধ্বংস হয়ে গেছে মনুষ্যত্ব মানবিক মূল্যবোধ। আমাদের সমাজ আজ ধর্ষণে ছেয়ে গেছে। যদিও ধর্ষণমুক্ত সমাজ ও সময় কখনোই ছিল না, এখনো নেই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে ধর্ষণের প্রতিবাদে ও ধর্ষকদের সর্বোচ্চ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ বুধবার (০৮ জানুয়ারি, ২০২০) দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত মানবন্ধনে এসব কথা বলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট গাজীপুর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।

মানবন্ধনে ছাত্র ফ্রন্ট নেতারা বলেন, বাংলাদেশে ধর্ষণ সবচেয়ে বিকশিত সামাজিক কর্মকাণ্ড। পৃথিবীতে যার কোন তুলনা মেলে না। এদেশে একক ভাবে ধর্ষণ করা হয়, দলবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ করা হয় এবং ধর্ষণের পর ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয় ধর্ষিত নারীকে। এখানে পিতা ধর্ষণ করে কন্যাকে,জামাতা ধর্ষণ করে শাশুড়িকে, গৃহশিক্ষক ছাত্রীকে, আমলা ধর্ষণ করে কার্যালয়ের মহিলা কর্মীকে, সহপাঠী সহপাঠিনীকে, ইমাম ধর্ষণ করে আমপারা পড়তে আসা কিশোরীকে, মন্দিরে পুরুহিত পুজারত বালিকাকে, দুলাভাই শালিকে, শশুর পুত্রবধূকে এমনকি থানায় পুলিশ বিচার চাইতে আসা ঐ ধর্ষিতা নারীকে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ ধর্ষণকারীদের দ্বারা অবরুদ্ধ। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা বাঙালি নারীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, কিন্তু কোন বাঙালি অন্য কোন বাঙালি নারীর উপর নির্যাতন করে নি। বর্তমানে বাংলাদেশে যে সমস্ত ঘটনা ঘটছে তা স্বাধীন বাংলার মানুষই ঘটাচ্ছে। এদেশে নারী বাস করছে নিরন্তর ধর্ষণভীতির মধ্যে। চাষীর মেয়ে মাঠে যায় না, স্কুল-কলেজ যায় না, গাড়ি-বাড়ি, রাস্তাঘাট,অফিস, থানা কোথাও নারী নিরাপদে চলতে না পারার কারণ ধর্ষণভীতি। যার শিকার ঢাবির মেধাবি শিক্ষার্থী।

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, ধর্ষিত নারী কিছুটা সান্তনা পেতে পারত বিচার বিভাগের কাছ থেকে। কিন্তু বিচার বিভাগ, যা পুরুষেরই সৃষ্টি, তাকে নিয়ে অনেকটা খেলায় মেতে উঠে। বিচার বিভাগের সাহায্য চাওয়ার পর ধর্ষিত নারী ধর্ষিত হওয়ার বিভীষিকার পর পড়ে বিচার বিভাগের বিভীষিকার মধ্যে। বিচার বিভাগের আচরণে ধর্ষিতদের মনে হয় তারা আবার ধর্ষিত হচ্ছে। একজন নারীবাদী বলেছেন, ধর্ষণ কিছু বিকৃত মনোব্যাধিগ্রস্ত মানুষের কাজ নয়, সমাজেরই কাজ। ধর্ষণ বিকারগ্রস্তের রোগ নয়, পিতৃতন্ত্রের রোগ।

মানবন্ধনে ছাত্র ফ্রন্ট নেতা হারুন-অর রশিদের সঞ্চালনায় এবং ছাত্র নেতা মাধব চন্দ্র মন্ডলের সভাপতিত্বে ধর্ষণের বিদায়ী বছরের এক রিপোর্ট তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ বলেন  এ পর্যন্ত এ এক বছরে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১,৭০৩ জন। হাতে গোনা কয়েকটির বিচার হলেও বেশির ভাগ ধর্ষণকারী রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কুর্মিটোলায় ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণকারীর গ্রেফতারসহ অন্য সকল ধর্ষণকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি জানান মানববন্ধনে উপস্থিত সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।