বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাওয়ালীয়া গ্রামের জ্ঞানেন্দ্র নাথ রায়ের পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে বিএম কলেজ ছাত্রী সেতু রানী রায়ের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সেতু অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী এবং বাওয়ালীয়া গ্রামের কুয়েত প্রবাসী সদান্দ রায়ের মেয়ে ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

লাবনসাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সুজিৎ কুমার বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, নিহতের বাড়ি থেকে ১ কিলোমিটার দূরে পরিত্যক্ত বাড়ির আম গাছের ডালের সাথে ওড়না প্যাচানো ঝুলন্ত সেতুর মরদেহ দেখতে পেয়ে গ্রামবাসী পুলিশকে অবহিত করে। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে সেতুর মরদেহ উদ্ধার করে বানারীপাড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সেতু রায়ের মামা সনজিৎ চন্দ্র মন্ডল জানান, সেতু প্রায়ই মোবাইল ফোনে অন্য কারো সাথে কথা বলত। ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে সে কারো কাছে কোন কিছু না বলেই বাড়ি থেকে বের হয়ে অন্য কোথাও চলে যায়। পরে তারা জানতে পারে জ্ঞানেন্দ্র নাথ রায়ের পরিত্যক্ত বাড়ির আম গাছের ডালের সাথে সেতুর মরদেহ ঝুলছে।

এ সময় তারা ওই ঘটনাটি থানা পুলিশকে অবহিত করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেতুর মরদেহ উদ্ধার করে।

বানারীপাড়া থানার ওসি শিশির কুমার পাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেতুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে নরসিংদীর শিবপুরে নিখোঁজের চারদিন পর রিফাত (১৬) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার দক্ষিণ সাধারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত পানির ট্যাংকি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রিফাত উপজেলার দক্ষিণ সাধার চর এলাকার শুক্কুর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় আশরাফুল (১৫) ও রাসেল (১৬) দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শিবপুর থানার পুলিশ জানায়, রিফাত নিখোঁজের পর গত শনিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে তার পরিবার। পরে পুলিশ সন্দেহবশত বুধবার রাতে একই এলাকার আশরাফুল (১৬) নামে এক কিশোরকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে আটক আশরাফুল পুলিশকে জানায়, দক্ষিণ সাধার চর এলাকার শহিদুল্লার ছেলে রাসেল (১৭) ও নাজমুল হকের ছেলে সাইফুল (১৫) মিলে রিফাতকে গলা কেটে হত্যা করেছে। পরে মরদেহটি দক্ষিণ সাধার চর উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত পানির ট্যাংকিতে লুকিয়ে রাখে।

রাতেই রাসেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্যমতে বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ সাধারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত পানির ট্যাংকি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতের মা রুনা বেগম তিনজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রেম সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।