মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজে কর্মরত অনার্স মাস্টার্স কোসের্র শিক্ষক। আমি ২০১৫ সালের দৈনিক জাতীয় পত্রিকায় সরকারী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে চাকরির জন্য আবেদন করি। পরবর্তিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স কোর্সের একজন সম্মানিত এবং গর্বিত শিক্ষক হিসেবে ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে কলেজে যোগদান করি। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ০৫ বছর অতিবাহিত হয়ে গেল শিক্ষক হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে আসছি। আমরা দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করিয়ে থাকি। যারা লেখা পড়া শেষ করে কর্ম জীবনে প্রবেশ করে পরিবার পরিজনের ভরণ পোষনের দায়িত্ব নিয়ে থাকে এবং দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করে। তারা কর্মজীবনে প্রবেশ করার পর বেতন ভাতা পায় অথচ আমরা পাইনা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
বর্তমানে আমাদের কোন ঈদ নেই, কোন পূজা নেই ,কোন আনন্দ নেই। পিতামাতার ভরন পোষন তো দুরের কথা নিজের জীবন নিয়েই চলতে পারছি না,পরিবার পরিজন নিয়ে। বছরের পর বছর চলে যায় অথচ আমাদের মত শিক্ষকদের জীবনে ঈদ আসে।কলেজ থেকে যে দু-চার হাজার টাকা পোষাক এবং যাতায়াত বাবদ যেটা পেতাম সেটাও দীর্ঘ দিন বন্ধ। এখন পরিবার পরিজন নিয়ে এক অসহনীয় দূর্বিসহ জীবন যাপন করছি। শুধু আমি একা নই আমার মত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ,যুব লীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও সাবেক ছাত্রলীগের শতশত নেতাকর্মী সহ প্রায় ৩৫০০ মেধাবী বেতনবিহীন শিক্ষক,যারা অনার্স মাস্টার্স শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।এদের এমপিও ভুক্ত করতে বছরে মাত্র একশত কোটি টাকা খরচ হবে। যেটা দেশের জন্য বোঝা নয় বরং বিনিয়োগকৃত সম্পদ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
মধ্যযুগে সম্পদশালী লোকেরা কৃত দাস দাসী ক্রয় করে তাদের দিয়ে সংসারের যাবতীয় কাজ করানো হত। তাদের কোন চাওয়া পাওয়া ছিল না, কোন অধিকার ছিলনা।রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের কোন মৌলিক অধিকার না পাওয়ার কারনে (খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থান শিক্ষা,চিকিৎসা) তাদের মধ্যে কোন শিক্ষা সংস্কৃতি কিছুই ছিল না,ফলে তারা বিশৃংখল জীবন যাপন করতে বাধ্য হত। যার কারনে তাদের দেশ থেকে তারিয়ে দিয়েছে।নিন্দিত জাতি হিসেবে পৃথিবিতে তারা পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে আপনি তাদেরকে আমাদের দেশে আশ্রয় দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মহানুভবতার পরিচয় দিয়ে “মানবতার মা” উপাধি পেয়েছেন।যেটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

আজ আমরাও এই উন্নয়নশীল সভ্য দেশে বাস করে সেই মধ্যযুগের বিনা বেতনের কৃতদাসীতে পরিনত হয়েছি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় , কলেজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমাদের ক্রয় করে নয় বরং নিয়োগ দিয়ে কৃতদাস বানিয়ে রেখেছে, রোহিঙ্গা বানিয়ে রেখেছে।এখানে আমাদের মান,মর্যাদা,সম্মান কিছুই নেই। আমাদের ও কোন চাওয়া পাওয়ার অধিকার নেই।পৃথিবীর কোন দেশে এমন নজির নেই যে, চাকরি দেবে, কাজ দেবে কিন্তু বেতন দেবে না। আমি হলফ করে বলতে পারি বাংলাদেশের সরকারি বেসরকারি এমন কোন প্রতিষ্ঠান নেই ,যেখানে জাতীয় পত্রিকায় সার্কুলার দিয়ে লোক নিয়োগ করবেন, আর তারা বিনা বেতনে, স্বেচ্ছা শ্রমে একমাস কাজ করে সেবা দিয়ে যাবে। এক জনও পাওয়া যাবে না। অথচ আমরা দির্ঘ ২৭ বছর বিনাবেতনে দেশের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

সকল যোগ্যতা থাকা সত্বেও জনবল কাঠামোতে আমাদের অর্ন্তভুক্ত না থাকার কারনে চাকরি জীবনে বেতন (এমপিও) বঞ্চিত হওয়ার সাথে সাথে সহকারি অধ্যাপক,অধ্যাপক এবং অধ্যক্ষ পদ লাভ করার কোন সুযোগ আমাদের নেই। বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সেশনজট কমাতে গিয়ে শিক্ষার মান কিছুটা কমে গিয়েছে। কাম্য সংখ্যক আসনের বিপরিতে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির কারনে সরকারি কলেজ গুলোতে ঠিকমতো সকল ছাত্র/ছাত্রী ক্লাশ করার সুযোগ পায় না। আমাদের

মন্ত্রী, এমপি, রাজনীতিবিদ,আমলাদের পরামর্শে তাদের এলাকায় অপ্রয়োজনীয় কলেজ গুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স মাস্টার্স অধিভুক্তি দিয়েছে।এগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বন্ধ করা উচিত। সকল কলেজে আসন সংখ্যা (ভৌত অবকাঠামো অনুযায়ী) সীমিত করে সর্বোচ্চ একশত আসনে নামিয়ে আনা উচিত। যেহেতু বর্তমানে সেশনজট নেই সেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়কে অতীতের গৌরব ফিরিয়ে এনে লেখাপড়ার মানের দিকে নজর দেয়া উচিত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ করি বঙ্গবন্ধুর কন্যা হয়ে সারা পৃথিবীর মানুষ আজ আপনাকে মানবতার মা বলে ডাকেন, সেই মানবতার ছোঁয়ায় দেশের নন এমপিও স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার এমপিও ভুক্তির সাথে আমাদের বেসরকারি কলেজে দীর্ঘদিন বঞ্চিত অনার্স মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকদের এমপিও ঘোষনা দিন। এমপিও ঘোসনা দিলে এখন বেতন না পেলেও এক সময় পাবো এই মনে করেই আপাতত ঈদের আনন্দ উপভোগ করব, এটাই মনে করব আমাদের জন্য ঈদ বোনাস। আপনি ছাড়া আর কোথাও আমাদের বলার জায়গা নেই। আমাদের কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না। মন্ত্রি, সচিব, আমলা,এমনকি ভিসি না। আপনি আমাদের এমপিও দিন, পরিবার নিয়ে মাথা উচু করে বাঁচার অধিকার দিন।

মোকলেসুর রাহমান মনি
প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,
বাবুগঞ্জ কলেজ, বরিশাল।
যুগ্ম আহ্বায়ক
বেসরকারি কলেজ অনার্স মাস্টার্স শিক্ষক ফোরাম
কেন্দ্রীয় কমিটি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।