ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা; সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলো সীমিত আকারে আগামীকাল রবিবার (৩১ মে ২০২০) খুললেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত দেশের স্কুল-কলেজ খুলবে না। আপাতত জুনে স্কুল-কলেজ খোলার সম্ভাবনা নেই। এ কারণে আগামী মাসে স্কুলের অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষাও হচ্ছে না। স্থগিত হয়ে থাকা উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষাও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শুরু হবে না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও অফিসের কাজকর্ম সীমিত আকারে শুরু হতে চললেও ক্লাস-পরীক্ষা আপাতত বন্ধই থাকবে।
দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী পড়াশোনা নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে। এর মধ্যে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলো কাল রোববার থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সীমিত আকারে খুলে দেওয়া হবে। তবে এই সময় পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এমন অবস্থায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রশ্ন, তাহলে কি ১৫ জুনের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খুলে দেওয়া হবে। এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেল জুনেও স্কুল-কলেজ খোলার সম্ভাবনা নেই।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (৩০মে ২০২০) তথ্য অনুযায়ী,গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০টি ল্যাবের মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করেছি ১ হাজার ৪৪৩টি। নমুনা পরীক্ষা করেছি ৯ হাজার ৯৮৭টি গতকাল নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল ১১ হাজার ৩০১টি। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় এই সংগৃহীত নমুনা থেকে শনাক্ত রোগী পেয়েছি ১ হাজার ৭৬৪ জন। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৮ জন। শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে ২৮ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু দাঁড়ালো ৬১০ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। সুস্থ হয়েছে ৩৬০ জন। মোট সুস্থ হয়েছে ৯ হাজার ৩৭৫ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ০২ শতাংশ। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, পুরুষ ২৫ জন ও নারী তিনজন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের সাতজন, রংপুর বিভাগের দুইজন ও সিলেট বিভাগের একজন। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা সিটির আছেন ১০ জন। বয়স বিশ্লেষণে জানা যায়, ৩১-৪০ বছরের মধ্যে চারজন, ৪১-৫০ চারজন, ৫১-৬০ নয়জন, ৭১-৮০ তিনজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দুইজন। হাসপাতালে মারা গেছেন ২৬ জন ও বাকি দুজন বাড়িতে। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ৪৬৯ জনকে। আইসোলেশন থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে ৮০ জনকে।
আমাদের বাণী ডট কম/৩০ মে ২০২০/সিসিপি
