চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় প্রেমিকের লাথিতে প্রেমিকার গর্ভপাতের তিনদিন পর পুকুরপাড়ে মাটি চাপা দেওয়া নবজাতকের লাশ শুক্রবার দুপুরে উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে নবজাতকের লাশটি উত্তোলন করা হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের রশিদের পাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে কালো মিজানের সাথে সাতঘরিয়া পাড়া এলাকার এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মিজান ভিকটিমকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এতে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
এদিকে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় ভিকটিমের বাড়িতে যায় মিজান। মেয়েটি মিজানকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিজান মেয়েটির পেটে লাথি মারে। এতে ঘটনাস্থলেই ওই অন্তঃসত্ত্বার গর্ভপাত ঘটে। ঘটনার পরপরই মৃত বাচ্চাটি গোপনে মাটিচাপা দিয়ে কালো মিজান পালিয়ে যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধ ফোরামের সভাপতি ও এমপিপত্মী রিজিয়া রেজা চৌধুরীর দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি এ ব্যাপারে তৎপর হয়ে উঠলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদ্মাসন সিংহর উপস্থিতিতে পুকুরপাড় থেকে নবজাতক শিশুটির লাশ উত্তোলন করা হয়। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
লোহাগাড়া থানার এসআই গোলাম কিবরিয়া জানান, কয়েকদিন আগে ভিকটিম বাদী হয়ে কালো মিজানকে আসামী করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিকভাবে নবজাতকের পেটে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন সনাক্ত করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদ্মাসন সিংহ বলেন, আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের জন্য নবজাতকের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। লাশ চট্টগ্রাম হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধ ফোরাম লোহাগাড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খলীল জানান, ‘এ ধরণের অমানবিক ও অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধে আমাদের সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের সভাপতি রিজিয়া রেজা চৌধুরীর তৎপরতার কারণে কালো মিজানের বিষয়টি আইনি রূপ পেয়েছে। এ ধরনের নিষ্ঠুরতম কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।’
