বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড এম.এ সামাদ বলেন, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে লুটপাট, গুম-খুন, ধর্ষণ ও সন্ত্রাস সীমা ছাড়িয়েছে।
রবিবার বিকাল ৪ টায় মহামতি কার্ল মার্কসের ২০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) তোপখানা রোডস্থ পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
এসময় কমরেড এম.এ সামাদ বলেন, সমাজতন্ত্র কায়েম ছাড়া দেশের ৯০ ভাগ মেহনতি মানুষের মুক্তি মিলবে না। দেশের ফ্যাসিবাদ শাসকগোষ্ঠির ছত্রছায়ায় মাত্র ১০ ভাগ লুটেরা ৯০ ভাগ মেহনতি মানুষকে শোষণ করছে। দেশে লুটপাটের মহোৎসব চলছে। দ্রুত কোটিপতির সংখ্যা দেশে বাড়ছে। ব্যাংক-বীমা ও দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাটের অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। ব্যাংক থেকে যারা কোটি কোটি টাকা লুট করেছে সরকার তাদের ক্ষমা করে দিচ্ছে। অপরদিকে একজন দরিদ্র কৃষক মাত্র ৫/১০ হাজার টকা ঋণের কারণে সার্টিফিকেট মামলা মাথায় নিয়ে জেলে যাচ্ছে। দেশে উল্লেখযোগ্য ভাবে ধর্ষণ-খুন বেড়ে গেছে। দেখা যাচ্ছে এসব ঘটনার সাথে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠির লোকজন জড়িত। দেশে ৩ কোটি পঞ্চাশ লক্ষ শিক্ষিত বেকার যুবক। তাদের কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সরকার করছে না। ৪৭ বছরে বিদেশে পাচার হয়েছে ১৫ লক্ষ কোটি টাকা। যার ধারা এখনো অব্যাহত। এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে। সড়কে চলছে চরম নৈরাজ্য। প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা হচ্ছে। সরকারি দপ্তরগুলোয় চলছে অবাধ ঘুষের রাজত্ব। আজ মানুষ কথা বলতে পারছে না। মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্বাধীনতা বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। জনগণের ভোটের অধিকারও হরণ করা হয়েছে। এক কথায় সরকার জনগণের জানমাল, ইজ্জতের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আজ কার্ল মার্কসের জন্মদিনে আমাদের নতুন করে শপথ নিতে হবে। মেহনতি মানুষকে সাথে নিয়ে লড়াই করেই সমাজতন্ত্র কায়েম করতে হবে। মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আমাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সম্পাদক কমরেড হারুন চৌধুরী, সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সামছুল আলম, গরীব মুক্তি আন্দোলনের আহ্বায়ক ও শহীদ আসাদ স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সামছুজ্জামান মিলন ও পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড সাহিদুর রহমান।
