ক্যানসার বা কর্কটরোগ অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত রোগসমূহের সমষ্টি। এখনো পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসার রোগ সহজে ধরা পড়ে না। এর ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভালো কোনো চিকিৎসা দেয়াও সম্ভব হয় না।
বাস্তবিক অর্থে এখনো পর্যন্ত ক্যান্সারের চিকিৎসায় পুরোপুরি কার্যকর কোনো ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। ক্যানসার সারানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।
তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে এই রোগ সারানোর সম্ভাবনা অনেকাংশ বেড়ে যায়। ২শ’ প্রকারেরও বেশি ক্যান্সার রয়েছে। প্রত্যেক ক্যানসারই আলাদা আলাদা এবং এদের চিকিৎসা পদ্ধতিও আলাদা।
কিন্তু ক্যানসারে আক্রান্তকেও মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব। তবে, তার জন্য রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু এমন কিছু ক্যান্সার রয়েছে যেগুলি প্রাথমিক পর্যায় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।
কিডনির ক্যানসার : উপসর্গগুলি হল পিঠের নীচের দিকে যন্ত্রণা, সারাক্ষণ ক্লান্তি ভাব, আচমকা ওজন অস্বাভাবিক কমে যাওয়া এবং মূত্রের সঙ্গে রক্তপাত
প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার : সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সারা দেশে ক্যানসার আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র ২ শতাংশ প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। কিন্তু ব্রেস্ট ক্যান্সারের তুলনায় এতেই বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার শনাক্ত করা বেশ কঠিন। কারণ, অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও সাধারণ জন্ডিসের মতোই উপসর্গ দেখা দিতে পারে। প্রাথমিক ভাবে তেমন ব্যথা হয় না, তেমন কোনও উপসর্গও প্রকাশ পায় না।
লিভার ক্যানসার : একেবারে শেষের দিকে উপসর্গ বোঝা যায় বলে লিভার বা যকৃতের ক্যানসার শনাক্ত করা কঠিন। লিভারের বেশিরভাগ অংশই পাঁজরের নীচে ঢাকা থাকে। যাদের মদ্যপানের অভ্যাস রয়েছে বা লিভার সিরোসিস রয়েছে, তাদের লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি
লাং ক্যানসার : বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লাং বা ফুসফুসের ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার পড়েই ধরা পড়ে। তেমন কোনও বিশেষ উপসর্গও থাকে না। শুধু তাই নয়, চেস্ট এক্সরেতেও ফুসফুসের ক্যানসার ধরা পড়ে না। পিইটি বা সিটি স্ক্যানে একমাত্র ধরা পড়তে পারে
ওভারিয়ান ক্যানসার : নারীরা যত রকমের ক্যানসারে আক্রান্ত হন তার মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ ওভারিয়ান ক্যান্সার বা জরায়ুর ক্যানসার। কিন্তু মাত্র ২০ শতাংশ ওভারিয়ান ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়। কারণ, প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনও উপসর্গ থাকে না। সাধারণত, তৃতীয় বা চতুর্থ পর্যায়ের পর ওভারিয়ান ক্যানসার ধরা পড়ে
ব্রেন টিউমার : মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডের টিউমার শনাক্ত করা যায় তখনই যখন তার উপসর্গগুলি প্রকাশ পায়। যেমন, হাত কাঁপা, মাথাব্যথা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, ব্যক্তিত্বে সূক্ষ্ম পরিবর্তন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্তরা উপসর্গগুলিকে তেমন একটা গুরুত্ব দেন না । সাধারণত এমআরআই বা মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান ছাড়া ব্রেন ক্যানসার ধরা পড়ে না
সার্কোমা ক্যানসার : শরীরের বিভিন্ন টিস্যু যেমন পেশী, চর্বি, ত্বকের গভীরের কোষ, হাড় বা তরুনাস্থিতে বাসা বাঁধে সার্কোমা ক্যান্সার। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ক্যান্সারের তেমন কোনও উপসর্গ প্রকাশ পায় না।
