সম্প্রতি প্রকাশ করা রাজাকারদের তালিকায় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার নাম আসার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই ঘটনার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, `রাজাকারদের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম আসায় আমি অত্যন্ত দুঃখিত। আমার নাম ওই তালিকায় এলে আমি যেভাবে কষ্ট পেতাম, তারাও এমন কষ্ট পেয়েছেন। এই বিষয়ে আমরা ব্যাথিত।`
তিনি আরও বলেন, `এই ঘটনার পুরো দায় আমি নিজের কাঁধে নিচ্ছি। এবং এর জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। বেশ কয়েকটি অভিযোগ ইতোমধ্যে আমাদের হাতে এসেছে। অভিযোগের পরিমাণ বেশি হলে তালিকা প্রত্যাহার করা হবে। এরপর তদন্ত করে আবার যখন নতুন করে তালিকা ছাপাবো, অবশ্যই দুঃখ প্রকাশ করে ছাপাবো।`
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে রাজাকারদের যেই তালিকা পেয়েছি, সেটাই প্রকাশ করেছি। এটা আমরা তৈরি করি নি। জাতি এই তালিকা চেয়েছে, আমরা শুধু প্রকাশ করেছি মাত্র।
যারা এই তালিকাটি তৈরি করেছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, একাত্তরে কারা এই তালিকা তৈরি করেছে তাদের খুঁজে বের করতে পারলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, গত রবিবার মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৯৭২ সালের দালাল আইনে মামলা করা হয়েছিল তাদেরকে রাজাকার আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর সদস্য হিসাবে চিহ্নিত করে ১০ হাজার ৭৮৯ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক তার মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তালিকা প্রকাশ করেন। তবে তালিকা প্রকাশের পরই তালিকায় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার নাম থাকার অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলার সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী তার বাবা ‘তপন কুমার চক্রবর্তী’র নাম নিয়ে এমন অভিযোগ তুলেছেন।
সোমবার মনীষা চক্রবর্তী ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘মানুষের জন্য নিঃস্বার্থ কাজ করার পুরস্কার পেলাম আজ। ধন্যবাদ আওয়ামী লীগকে। সদ্য প্রকাশিত রাজাকারদের গেজেটে আমার বাবা এবং ঠাকুমার নাম প্রকাশিত হয়েছে। আমার বাবা এড. তপন কুমার চক্রবর্তী একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা, ক্রমিক নং-১১২ পৃষ্ঠা-৪১১৩। তিনি নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও পেয়ে থাকেন! আজ রাজাকারের তালিকায় তিনি ৬৩ নাম্বার রাজাকার।’
‘আমার ঠাকুরদা এড. সুধির কুমার চক্রবর্ত্তীকে পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনী বাসা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। তিনিও ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত। তার সহধর্মিণী আমার ঠাকুমা উষা রানী চক্রবর্ত্তীকে রাজাকারের তালিকায় ৪৫ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
তিনি স্ট্যাটাসে আরও লিখেছেন- শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য আমার রাজনীতি করার খেসারত দিতে হচ্ছে আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে। ধন্যবাদ আওয়ামী লীগ সরকারকে।
আমার দল বাসদ আমাকে শিখিয়েছে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করাকে। মিছিল থেকে গ্রেফতার করে থানায় নির্যাতন করে ওরা বলেছিল যে আন্দোলন যেন না করি, নির্বাচনে যেন অংশ না নিই। রাজী না হওয়ায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে অজামিনযোগ্য মামলা দিয়ে জেলে প্রেরণ করেছে। আমরা জেল খেটেছি, নির্যাতন সহ্য করেছি কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথানত করিনি।
