বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা কক্সবাজারের রামু উপজেলা। কক্সবাজার জেলা সদর, উখিয়া, টেকনাফ ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থানার সংযোগ পয়েন্ট রামু থানা।যে কারণে মাদক নির্মুলে রামু থানার গুরুত্ব অনেকাংশে। এদিকে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে উখিয়ায় বদলির বিষয়ে বেশ শঙ্কিত রামু বাসী। কেননা রামু থানার এই কর্মকর্তা দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই শুধু মাত্র মাদক নয় জেলার বৌদ্ধ ও সনাতন ধর্মালম্বীদের বসবাস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হিসেবে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছেন তিনি।
এদিকে রামু থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে বদলি হয়েছে ইতিমধ্যে মাদক নির্মুলে ব্যর্থতার দায়ভার কাঁধে নেওয়া উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের। উখিয়ায় অপ্রতিরোধ্য ইয়াবা ব্যবসার জন্য মাদকবিরোধী সচেতন মানুষ দায়ী করছেন উখিয়া থানার বর্তমান ওসি আবুল খায়েরকে। রোহিঙ্গা শিবিরে ভিআইপি প্রটোকল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বের অযুহাতে ওসি ইয়াবা বিরোধী অভিযান এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ তুলছেন তারা। তবে দীর্ঘদিন পর উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়েরকে বদলী করা হয়েছে। উখিয়ায় ওসি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন রামু থানার ওসি আবুল মনসুর।
সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে উখিয়া থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশ্ন উঠে। ওসিকে টার্গেট করে সমালোচনাও হয়। ইয়াবা নির্মূলের জন্য তারা ওসিকে সরানোর দাবীও তুলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উখিয়ার কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি জানান, উখিয়ার মরিচ্যা থেকে পালংখালী পর্যন্ত শত শত ইয়াবা ব্যবসায়ী রয়েছে। পালংখালীর ৯ জন ইউপি সদস্যের মধ্যে আটজন চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। সব ইয়াবা ব্যবসায়ীই বীরদর্পে বিচরণ করে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত রহস্যজনক।
রামু উপজেলাকে পাল্টে দিতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল মনসুর কতটা ভুমিকা রেখেছেন তা কান পাতলেই শোনা যায়। বিশেষ করে মাদক নির্মুলের পাশাপাশি উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার সফল উদাহরণও তৈরি করেছেন তিনি।
এখন রামুরবাসীর মনে প্রশ্ন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাদকনিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে রামুতে আসলে এখানে এসে অনেকাংশে মাদকমুক্ত ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ উপজেলাকে তিনি কি দিতে পারবেন। এখানে ফের মাদক সাম্রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা হবে বলে আশঙ্কা এই এলাকাবাসীর মনে।
