নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা;  মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে নতুন পদ্ধতিতে লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে দেশকে। আজ রবিবার (০৭ জুন ২০২০ ) থেকেই কিছু কিছু এলাকায় এটা কার্যকর করা শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে  করোনার ক্লাস্টার নগরীখ্যাত নারায়ণগঞ্জ শহরের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা রেড জোন হিসেবে নারায়ণগঞ্জের রূপায়ন সিটি, আমলাপাড়া ও জামতলাকে নির্বাচন করে সকাল থেকেই কার্যকর করেছে প্রশাসন।

  • রেড, ইয়েলো ও গ্রিন- এই তিন জোনে ভাগ করে রেড জোনের ব্যাপারে সর্বোচ্চ কড়াকড়ি আরোপ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। করোনা মোকাবেলায় দেশের যে বিশেষজ্ঞ কমিটি, তারা রেড জোনে ওষুধের দোকান ছাড়া অন্য সবকিছু বন্ধের সুপারিশ করেছেন।

সরকারও তেমনটাই ভাবছে। ইতোমধ্যে দেশে প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় সাধারণ ছুটি থাকলেও মানুষকে সম্পূর্ণভাবে ঘরে রাখা যায়নি। এবার আটঘাট বেঁধে নামছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

  • জনগনকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে রেড জোনে ‘যে কোনো ব্যবস্থা’ নেবে পুলিশ। এই জোনে বাইরে থেকে কেউ ঢুকতে পারবে না, ভেতর থেকে কেউ বের হতে পারবে না।

করোনা প্রতিরোধে জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির এক সদস্য বলেন, শেষ সুযোগ হিসেবে এখনও আমাদের হাতে কিছু সময় আছে। করোনার ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। আমরা বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছি- যেসব ওয়ার্ডে ৪০ জনের বেশি আক্রান্ত সেটাকে রেড জোন ঘোষণা করা। রেড জোনে ওষুধের দোকান ছাড়া কিছু খোলা থাকবে না। কেউ মাস্ক না পরলে দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা আদায় করতে হবে।

  • এমন আরো কিছু পরামর্শ আছে, কর্তৃপক্ষ প্রায় সবগুলোর ব্যাপারেই ইতিবাচক। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ইতোমধ্যেই একটি ‘করোনা মানচিত্র’ তুলে ধরা হয়েছে, যার মাধ্যমে আক্রান্ত বিবেচনায় রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনের ভাগ করা হয়েছে দেশকে।

৫০ জেলা ও ৪০০ উপজেলাকে রেড জোন (পুরোপুরি লকডাউন) হিসেবে দেখানো হয়েছে। ইয়েলো জোন হিসেবে দেখানো হয়েছে ১৩ জেলা ও ১৯ উপজেলাকে, এসব এলাকায় আংশিক লকডাউন কার্যকর হবে। গ্রিন জোন (লকডাউন নয়) হিসেবে দেখানো হয়েছে ১ জেলা ও ৭৫ উপজেলাকে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (০৭ জুন ২০২০) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪২ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। ফলে ভাইরাসটিতে মোট ৮৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৭৪৩জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৫ হাজার ৭৬৯ জনে। নতুন করে সুস্থ্য হয়েছে ৫৭৮ জন এবং মোট সুস্থ হয়েছেন ১৩৯০৩ জন। ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘আমরা গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২টি ল্যাবের মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করেছি ১২ হাজার ৮৪২টি। নমুনা পরীক্ষা করেছি ১৩ হাজার ১৩৬টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯৮৭টি। ২৪ ঘণ্টায় এই সংগৃহীত নমুনা থেকে শনাক্ত রোগী পেয়েছি ২ হাজার ৭৪৩ জন। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ৬৫ হাজার ৭৬৯ জন। শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ৫৭৮ জন। মোট সুস্থ হয়েছে ১৩ হাজার ৯০৩ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ১৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে ৪২ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৫ জন, নারী ৭ জন।

আমাদের বাণী ডট কম/০৭ জুন ২০২০/সিসিপি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।