ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা; আফতাব উদ্দিন। বয়স ৯০ বছর। বয়সের ভারে দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন। অথচ একটা সময় শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতেন মানুষের জীবন। ছিলেন একটি মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক। শিক্ষার আলো জ্বালানো এ মানুষটি এখন অবহেলার শিকার। শুধু তা-ই নয়, শিকার চরম নিষ্ঠুরতার। তার ভর দেয়া লাঠি দিয়েই একের পর এক আঘাত করা হয়েছে তাকে। সম্পত্তির লোভে আপন ছেলে মেরে রক্তাক্ত করেছেন তাকে।
আজ বৃহস্পতিবার (০৭ মে ২০২০) ভোর রাতে লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ পৌর শহরের কাঠবাজার সড়কের একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃদ্ধ আফতাব উদ্দিন দীর্ঘ ৪২ বছর সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে রামগঞ্জ উপজেলার কচুয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় কর্মরত ছিলেন। তার নয় ছেলের মধ্যে চার ছেলে ঢাকা ও প্রবাসে থাকে। আট নম্বর ছেলে বদরোদ্দৌজা (৩২)। তিনি রামগঞ্জ পাটবাজার দারুস সালাম জামে মসজিদের ইমাম। অন্ধ বাবা ও অসুস্থ মাকে নিয়ে পাটবাজারে এলাকাতেই থাকেন।
বৃদ্ধ বাবা আফতাব উদ্দিন বলেন, ফজরের নামাজের পর বাড়ির সম্পত্তি তার নামে লিখে দেয়ার কথা বলে আমার ছেলে বদরোদ্দৌজা। এ বিষয়ে আমি অন্য ছেলেদের সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলার সাথে সাথে আমার হাতের লাঠি দিয়ে আমাকে মারধর করে। এ সময় অনেক অনুনয় বিনয় করেও রক্ষা পাইনি। আজ আমি ও আমার স্ত্রী সাহরী না করেই রোজা রেখেছি। মারধরের সময় আশেপাশের বাসার লোকজন এগিয়ে আসলে আমার ছেলে বদরোদ্দৌজা তাদেরকেও মারা জন্য তেড়ে যায়।
মারধরের পর আহত আফতাব উদ্দিনকে স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বদরোদ্দৌজা মসজিদ কমিটির লোকজন তার নিকটাত্মীয় বলে পরিচয় দিয়ে স্থানীয়দের ভয় দেখায়।
এদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রামগঞ্জ পাটবাজার দারুস সালাম জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি শহিদ উল্যা ও তার ছেলে বাবলু ইমাম বদরোদ্দৌজাকে মানসিক বিকারগ্রস্থ বলছেন। কিন্তু কেন একজন মানসিক বিকারগ্রস্থ ব্যক্তিকে মসজিদের ইমাম নিয়োগ করা হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার হারুন অর-রশিদ ওরফে চাঁদা হারুন বলেন, আমরা আগে বুঝতে পারিনি। আমরা রেজুলেশন করেছি তাকে ইমামতি থেকে বাদ দেয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় লোকজন জানায়, বদরোদ্দৌজা গত কয়েকবছরে চারটি বিয়ে করেছেন। স্ত্রীদের মারধর করায় সব স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে তিনি রামগঞ্জ কাঠ বাজারের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন।
এ ব্যপারে ইমাম বদরোদ্দৌজা বলেন, তারা (মা-বাবা) আমার হিসাব নিকাশ বুঝিয়ে দিচ্ছে না। আমি তাদেরকে খাওয়াচ্ছি। তবে বাবাকে মারধরের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি বদরোদ্দৌজা।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, আগে বৃদ্ধ মানুষটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা দরকার। তার চিকিৎসা নিশ্চিত করা দরকার। তারপরে অভিযোগ পেলে ছেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র; নয়াদিগন্ত
আমাদের বাণী ডট কম/০৭ মে ২০২০/এবিএ
