কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শোমসপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইন উদ্দিন মাস্টারের বিরুদ্ধে যশোর বোর্ডকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে নিজের তৈরি করা প্রশ্ন পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগের বোঝা না নামতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আরেকটি বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

রবিবার ফেসবুকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের সময় ৪০ টাকার নাস্তার ২০ টাকা গায়েব করার অভিযোগ তুলে তিনি ফেসবুক পোষ্ট করেন। তবে ফেসবুক পোষ্ট করার ঘন্টা দুয়েকের মাথায় তিনি তা ডিলিট করে দেন। তার বিতর্কিত মন্তব্যে ফুঁসছেন খোকসা উপজেলা শিখা অফিসার ও অফিসের কর্মকর্তারা।

শোমসপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইন উদ্দিন তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সদ্য সমাপ্ত আইসিটি ইন হাউস শিক্ষক প্রশিক্ষণের অর্থ লুটপাট। খোকসা উপজেলা শিক্ষা অফিস, কুষ্টিয়া। ৬০০ শিক্ষকের ৬ দিনের নাস্তার বরাদ্দকৃত মাথা পিছু প্রতিদিন ৪০ টাকা করে বরাদ্দের ২০ টাকা করে প্রদান করে বাকি টাকা লুটপাট। ৬০ জন প্রধান অতিথি ও ৬০ বিশেষ অতিথির বরাদ্দ কৃত টাকা আনাডা ফানাডা দিয়ে গায়েব। আরও খরচ বরাদ্দ কৃত না দিয়ে গায়বে। একজন অধ্যক্ষ প্রতিবাদ করায় ইউএনও অফিসে ডেকে অপমান। আরও চমক আছে পরে জানাবো । কোথায় সমাজের দর্পন সাংবাদিক ভাইয়েরা? কোথায় তালাস টিম কোথায় সচেতন সমাজ ? ‘

এ বিষয়ে খোকসা উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার মোঃ নাজমুল হক বলেন,  মাত্র তিন মাস হলো খোকসা উপজেলায় আমি যোগদান করেছি আমার বিরুদ্ধে আনিত এসব তথ্য মিথ্যা ভুয়া, বানোয়াট  ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।  আমি এর তীব্র প্রতিবাদ করি প্রয়োজন হলে আমি আইসিটিতে মামলা করব। তিনি এমনিতেই বিতর্কিত শিক্ষক তার এহেন মন্তব্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

তবে এ বিষয়ে শোমসপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইন উদ্দিন মাস্টার জোর দিয়ে বলেন, সত্যকে সত্য বলার সাহস রাখি। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের নাস্তার অর্ধেক টাকা গায়েব করেছে ।

এর আগে গত মাসের ২৪ তারিখে বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠিত ইংরেজি  ১০৭ নং কোর্সের পরীক্ষায় বোর্ডের প্রশ্ন বাদ দিয়ে নিজের তৈরি করা প্রশ্নে পরীক্ষা নিয়ে আলোচনায় আসেন এই শিক্ষক। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহি অফিসার বরাবর অবিভাবকেরা লিখিত দিলে ও যশোর বোর্ডের তদন্ত টিম তদন্তে আসলে এ বিষয় জনসমুক্ষে আসে। বোর্ডের তদন্ত টিমের কাছে এই প্রধান শিক্ষক কোন সদুত্তর দিতে না পারলেও নিজস্ব ক্ষমতাবলে নিজের তৈরি করা প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার এখতিয়ার আছে বলে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে জানান ও ফেসবুকে স্টাটাস দেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।