ঝিনাইদহের শৈলকুপায় শ্যামবাজার পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার তানিয়া আফরোজকে শ্লীলতাহানি ও মারপিটের অভিযোগে থানায় ৫ নভেম্বর মামলা দায়ের করা হয়েছে যার মামলা নং-৪।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর মামলার বাদী তানিয়া আফরোজ ব্যক্তিগত কাজে কবিরপুর তিনরাস্তা মোড়ে মোল্লা টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় শামীম (প্রাঃ) হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্ট্রিক সেন্টারের মালিকের সাথে দেখা করতে যায়। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শাহিন আক্তার পলাশ সে সময় ক্লিনিকের অফিসের বাইরে থাকায় বাদীকে তার অফিসে অপেক্ষা করতে বলে।
অন্যদিকে ক্লিনিকের উক্ত কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। সে সময় আসামী আব্দুর রহমান মিল্টন ও তার সহযোগি আসামী রামিম হাসান উক্ত কক্ষে এসে উপস্থিত হয়ে বাদী তানিয়ার সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে ১নং আসামী আব্দুর রহমান মিল্টন সাংবাদিক তানিয়া আফরোজকে ঝাপটে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। উত্তেজিত হয়ে অপর আসামী রামিমের সহযোগিতায় বাদীর মারধর করে। আসামী আব্দুর রহমান মিল্টন ও তার সহযোগি বেপরোয়া মাদকাশক্ত হিসেবে শহরে বেশ পরিচিতি রয়েছে। যাত্রার নর্তকীদের গ্রীণরুমে অশালীন কার্যকলাপ ও বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ছবি তোলায় তাকে চ্যানেল ২৪ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া মাদকাসক্ত ও চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রামের কাগজ পত্রিকা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আব্দুর রহমান মিল্টন তৎকালীন স্বাধীনতাবিরোধী ফ্রিডমপার্টির নেতা মিঞা আব্দুর রশীদের ভাতিজা ও তার ছোট ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিবির সংগঠক হিসেবে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে।
বাদী তানিয়ার অভিযোগ, গত ২৭ অক্টোবর এজাহার দাখিল করলেও অজ্ঞাত কারনে ৯দিন অপেক্ষার পর ৫ নভেম্বর মামলাটি রুজু হয়েছে। আসামী গ্রেফতারে পুলিশের তেমন তৎপরতা নেই এবং আসামীদ্বয় নানা মাধ্যমে বাদীকে ভয়ভীতি ও মামলা প্রত্যাহারে হুমকি দিচ্ছে বলে জানান।
এ ব্যাপারে শৈলুকপা থানার অফিসার ইনচার্জ বজলুর রহমান জানান, নারী সাংবাদিকের শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারা, ৩২৩ ও ৫০৬ পেনালকোডে মামলা দায়ের হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।
