জামাল হোসেনকে সভাপতি ও আশরাফুল আলম রনিকে সাধারণ সম্পাদক করে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট গাজীপুরের কোনাবাড়ি থানা শাখার ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শুক্রবার জেলার কোনাবাড়িতে কোনাবাড়ি থানা শাখার ১ম সম্মেলনের মাধ্যমে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নতুন এ থানা কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, কোষাধ্যক্ষ: শাকিব হোসেন, দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক: কায়েস মিয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক: শহিদুল মিয়া, আইন বিষয়ক সম্পাদক: মোর্শেদ আলি ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক: আলমগির হোসেন।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কোনাবাড়ি থানা শাখার সভাপতি জামাল হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এর কেন্দ্রিয় সেক্রেটারি  ওসমান আলী,সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ওসমান আলী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট এর কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস, বাসদ গাজীপুর জেলা সমন্বয়ক রজত আহমেদ, গাজীপুর জেলা শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপ্তি আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে স্বাধীন হলেও অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন নয়। উন্নয়নের ঢাকঢোল বাজিয়ে উন্নয়নের কথা বলা হলেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সাথে যে শ্রমিক জড়িত কেউ তাদের খবর রাখে না। বলা হচ্ছে মালিক-শ্রমিক ভাই ভাই কিন্তু বাস্তবে মালিক শ্রমিকের মধ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্ক। শ্রমিকবান্ধব সরকার আজ বিভিন্ন উন্নয়নের কথা বলে সাড়ে ছয় কোটি শ্রমিকের সাথে প্রতারণা করছেন।

বক্তারা আরো বলেন যে,গনতান্ত্রিক শ্রম আইন চালু করে শ্রম আইনের অগণতান্ত্রিক ধারাসমূহ বাতিল করতে হবে। অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার দিয়ে পে- স্কেলের সাথে সঙ্গতি রেখে ন্যুনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। বাজার মূল্য ও জীবন যাপন ব্যয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে প্রতি বছর মজুরি নির্ধারণের বিধান করে সোয়েটার এবং নিট এর ক্ষেত্রে পিস রেট হারে মজুরি কাঠামোর ৩ নং গ্রেডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে ও জ্যাকার্ড মেশিন শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজের চাপ কমাতে হবে। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের মৃত্যুতে আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ, আহতদের চিকিৎসা -ক্ষতিপূরণ -পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। নিয়োগ পত্র,পরিচয় পত্র ছাড়া চাকরিতে নিয়োগকারী মালিকদের কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে মজুরি, গ্রেড বৈষম্য ও মাতৃত্ব কালীন ছুটির বৈষম্য দূর করে শ্রমিক ছাঁটাই, নির্যাতন, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেয়া বন্ধ করতে হবে। সড়ক পরিবহন আইনের শ্রমিক নিপীড়নকারী ধারা সমূহ সংশোধন করে বিকল্প ব্যবস্হা ছাড়া রিকসা উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে।রিকসার জন্য আলাদা লেন চালু করে শ্রমিকদের আবাসন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দাও।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।