সরকারি চাকরিতে অষ্টম থেকে উপরের দিকে (১ম-৮ম) সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রেও কোটা পদ্ধতি থাকবে না। সোমবার (২০ জানুয়ারি) নন-ক্যাডার ৮ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা বণ্টন পদ্ধতি সংক্রান্ত পরিপত্র সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এই অনুমোদনের কথা জানান। ৮ম গ্রড থেকে এর ওপরের অর্থাৎ ১ম গ্রেড পর্যন্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কোটা থাকবে না।

কোটা বাতিলের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের স্পষ্টকরণের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) প্রস্তাব পাঠালে সেই প্রস্তাব অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয় থেকে গত ৩ ফেব্রুয়ারি নন ক্যাডার ৮ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে নাকি আগের কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে এ বিষয়টি স্পষ্টকরণের জন্য অনুরোধ করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে পরিপত্র জারি করে। সেখানে বলা হয়, ৯ম গ্রেড (আগের প্রথম শ্রেণি) এবং ১০ম থেকে ১৩ম গ্রেডের (আগের দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হবে। ৯ম গ্রেড এবং ১০ম থেকে ১৩ম গ্রেডের (আগের দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিপত্রে ৯ম গ্রেড (আগের প্রথম শ্রেণি) এবং ১০ম থেকে ১৩ম গ্রেডের (আগের দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলেও আগের ১ম শ্রেণিভুক্ত ৮ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা বণ্টন পদ্ধতি কী হবে সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই।

মন্ত্রিসভার শুরুতেই আইসিটিতে ভিয়েতনামের প্রতিযোগিতায় পাওয়া অস্কার খ্যাত এশিয়া প্যাসিফিক আইসিটি অ্যাওয়ার্ডসহ ৩টি পুরস্কার প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

এদিকে গত বছর মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষ প্রান্তিক বা শেষ তিন মাসে (অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বর) বৈঠক হয়েছে ৯টি।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়েছে ৯৭টি এবং বাস্তবায়ন হয়েছে ৭৩টি। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার শতকরা হিসেবে ৭৫.২৬ শতাংশ। আর বাস্তবায়নাধীন সিদ্ধান্ত রয়েছে ২৪টি। শতকরা ২৪.৭৪ শতাংশ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে দু’টি নীত এ কর্ম কৌশলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক হয়েছে ৫টি। এছাড়া সংসদে আইন পাস হয়েছে তিনটি।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে বেতন কাঠামো অনুযায়ী মোট ২০টি গ্রেড রয়েছে। এর প্রথম গ্রেডে অবস্থান করেন সচিবরা। আর প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে যারা নিয়োগ পান তাদের শুরুটা হয় ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের মধ্যে।

একজন গেজেটেড বা নন গেজেটেড প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা ৯ম গ্রেডে নিয়োগ পেয়ে থাকেন।

এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমানে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ জেলা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা ও শর্ত সাপেক্ষে ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা অর্থাৎ মোট ৫৬ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের বিধান ছিল।

শুধু তাই নয়, সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা তুলে দেয়ার পর এবার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি চাকরিতে শর্ত সাপেক্ষে কোটা তুলে দেয়া হয়েছে।

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোনো কোটা সংরক্ষণ করা হবে না। আগে নিয়ম ছিল তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির কোটায় যোগ্য চাকরি প্রার্থী না পাওয়া গেলে ওই পদে কাউকে নিয়োগ না দিয়ে শূণ্য রাখা হতো। ওই পদে কাউকে নিয়োগ না দিয়ে পদগুলো সংরক্ষণ করা হতো।

এখন যদি কোটার কোনো যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া যায় তাহলে জেলার সাধারণ মেধাবীদের মধ্যে যারা মেধা তালিকার শীর্ষে রয়েছেন, তাদের মধ্যে থেকে পূরণের বিধান চালু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

২০১৮ সালের ৫ মে জারি করা এক পরিপত্রে এ আদেশ দেয়া হয়েছে।

২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কোটা সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সব ধরণের কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলনের মধ্যে ৮ এপ্রিল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় পুলিশ ও ছাত্রলীগের। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গেল বছর ১১ এপ্রিলে জাতীয় সংসদে বলেন, কোটা নিয়ে যেহেতু এত কিছু, সেহেতু কোনো কোটাই আর রাখা হবে না। কোটা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করার কথাও ওই দিন বলেন সরকার প্রধান।

পরদিন কয়েকটি দাবি রেখে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। পরবর্তীতে গেল বছর ৪ অক্টোবর প্রজ্ঞাপনমূলে সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদের সকল কোটাই বিলুপ্ত করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।