নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা;  দেশের সব শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় বিহীন ১ হাজার গ্রামে আরও ১ হাজার প্রাথমিক স্কুল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

নতুন করে এসব এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের  লক্ষ্যে প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে ৫ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে তার এলাকার কোন কোন গ্রামে প্রাথমিক স্কুল নেই তার তালিকা দিতে বলা হয়েছে। তারপর এ সংক্রান্ত ডিটেইল প্রকল্প পরিকল্পনা (ডিপিপি) তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প (পিইডিপি-৪) আওতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার অনুযায়ী বিদ্যালয়বিহীন প্রত্যেকটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। সে লক্ষ্যে দ্বিতীয় ধাপে এক হাজার গ্রামকে বাচাই করতে ইউএনওর নেতৃত্বে একটি করে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়া পর পুরোদমে কাজ শুরু করব। তিনি বলেন, পরবর্তীতে আরও বিদ্যালয়বিহীন গ্রাম থাকলেও সেখানে বিদ্যালয় করা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকারে জিআইএসের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিদ্যালয়বিহীন এলাকাগুলো চিহ্নিত করে উপজেলাভিত্তিক ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তুত করার ম্যাপে বিদ্যালয় স্থাপনের কিছু জায়গা প্রাথমিকভাবে চিহ্নিতও করা হয়েছে। এলজিইডি প্রস্তুতকৃত উপজেলাভিত্তিক ম্যাপে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত স্থাপনাসমূহ সরেজমিন পরিদর্শন করে বাস্তব অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ ও প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে কমিটিকে বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে, সদস্যসচিব করা হয়েছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। কমিটি অন্য সদস্যরা হলেন, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (এসি ল্যান্ড), উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ও সহকারী প্রকৌশলী (ডিপিএইচই)। কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে বিদ্যালয়বিহীন এলাকা চিহ্নিত করে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব সরকারি প্রাথমিক মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন শাখার তথ্যমতে, বিদ্যালয়বিহীন ১৫০০ গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন` প্রকল্প গত ডিসেম্বর মাসে শেষ হয়েছে। প্রকল্পের দ্বিতীয় ফেসে আরও এক হাজার বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে স্কুল নির্মাণের জন্য ডিপিপি তৈরি করে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। তার আগে ইউএনওর নেতৃত্বে কমিটির প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কাজ করছে সংশ্লিষ্টরা। দ্রম্নত সময়ে প্রকল্পটি অনুমোদন হবে বলে জানান কর্মকর্তারা। কেননা দেশের সব বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে স্কুল নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (উন্নয়ন) নুরুন্নবী বলেন, অনেক দিন আগেই এসব বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এখন জরুরি ভিত্তিতে এ বিদ্যালয় স্থাপন করতে কমিটি করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে যদি এক হাজারের বেশি বিদ্যালয়ের চাহিদা পাওয়া যায় তবে সেগুলো স্থাপনের ব্যাপারে উদ্যোগী মন্ত্রণালয়।

ডিপিই সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের প্রায় ২১শ গ্রামে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। পাহাড়, হাওড়, চর ও উপকূলীয় এলাকায় এর সংখ্যা বেশি। চার থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যেও কোনো স্কুল নেই। যে কারণে এসব দুর্গম এলাকার শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষা বঞ্চিত হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এ সব শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে জন্য বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে প্রাথমিক স্কুল নির্মাণের নির্দেশনা রয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে ২০১০ সালের জুন মাসে `বিদ্যালয়বিহীন ১৫০০ গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন` নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে প্রাথমিক মন্ত্রণালয়। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৯০৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ডিপিইর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

আমাদের বাণী ডট কম/২৫ মার্চ ২০২০/টিএ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।