নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে আগামী জানুয়ারি মাসে। ইতোমধ্যে সমস্ত সমিক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। এ উৎপাদন কেন্দ্রটি চালু হলে রংপুর বিভাগের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলায় নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। থাকবে না কোন ভোল্টেজ আপ-ডাউন কিংবা লোডশেডিং। এতে করে ওইসব জেলায় নতুন নতুন শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে। বদলে যাবে অর্থনৈতিক দৃশ্যপট।

সৈয়দপুর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ সরকার বলেন, বিদ্যুতের এ কেন্দ্রটি স্থাপনে নতুন করে জমি অধিগ্রহণের কোন প্রয়োজন নেই। সৈয়দপুর ২০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের যে পতিত জমি রয়েছে এই জমিতেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে। সরকারকে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে না। অবকাঠামো নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি রাখতে নতুন করে কোন নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তোলার প্রয়োজন নেই। প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য আনসার বাহিনীর সদস্য ও পুলিশ ক্যাম্প আমাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসেই রয়েছে।

ওই কর্মকর্তার মতে, নতুন এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ডিজিটাল যুগের অত্যাধুনিক মডেলের যন্ত্রপাতির সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। ফলে উৎপাদন খরচ ২০ মেগাওয়াটের পিক পাওয়ার প্লান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে বর্তমানে প্রতি ইউনিটে খরচ পড়ে ২৮ টাকার মতো, অথচ নতুন পাওয়ার প্লান্টে এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে খরচ পড়বে মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকা। অপরদিকে গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে প্রতি ইউনিটে ৪ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। বিশেষ করে উত্তরা ইপিজেডে গ্যাসলাইন গেলে সৈয়দপুর ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রেও গ্যাস ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ যেমন কমবে তেমনি বিদ্যুৎ সেক্টর প্রতিবছর মুনাফা করবে। সরকারকে দিতে হবে না কোন ভুর্তকি।

এছাড়াও নতুন ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হলে খুব সহজেই মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগ পাবে। ফলে সৈয়দপুরসহ আশপাশের জেলা উপজেলায় নতুন নতুন শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে। উত্তরা ইপিজেডে কোন প্লট খালি থাকবে না। এতে করে নতুন গড়ে ওঠা শিল্প কারখানাগুলোতে লাখ লাখ বেকারের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে রংপুর বিভাগের উৎপাদিত কৃষিজ পণ্যকে ঘিরে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার সমূহ সম্ভাবনার দ্বার খুলবে ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হলে। আর কৃষিজ পণ্যের প্রক্রিয়াজাত শুরু হলে কৃষক যেমন তার উৎপাদিত পণ্যের মূল্য পাবে, তেমনি এসব প্রক্রিয়াজাতকৃত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

অপরদিকে সিভিল এ্যাভিয়েশনের একটি সূত্র মতে, খুব শিগগির সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক হতে যাচ্ছে। এ জন্য জমি অধিগ্রণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী বছরে সৈয়দপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাজ শুরু হবে। ইতোমধ্যে বিমানবন্দরের কাজ শেষ করতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। এ টাকার পুরোটাই যোগান দেবে ভারত সরকার।
সম্প্রতি ভারতের পশ্চিম বাংলার শিলিগুড়ি অঞ্চলের উচ্চ পর্যায়ের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল সৈয়দপুর ও রংপুর সফর করে গেছেন। ওই ব্যবসায়ী দলটি সৈয়দপুর টু নেপাল ও ভারতের বাগডোকরা টু সৈয়দপুর বিমান চলাচলের বিষয়টিও পর্যবেক্ষণে নিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভারতের ওই ব্যবসায়ী দলের একটি সূত্র জানায়, ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দ্রুত কমিয়ে আনতে তারা সমস্ত সম্ভাব্যতা যাচাই বাছাই শেষ করেছে। শুধুমাত্র দুই দেশের সরকার ঐক্যমতে পৌছালেই সৈয়দপুর বিমানবন্দরের সঙ্গে ভারত ও নেপালের বিমান যোগাযোগ চালু হবে। এতে করে উভয় দেশ স্বার্থ সংশ্লিস্ট তথ্য ব্যবসা বাণিজ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে আমদানি-রপ্তানি পরিচালনা করবে। এর ফলে উভয় দেশই লাভবান হবে। সরকারের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি উৎপাদনে গেলে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।