ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন,আসন্ন ঈদুল আযহায় স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পর্যাপ্ত গবাদিপশু সরবরাহ ও বিপণনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে কোরবানি করে পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোরবানির পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে, সচেতন হতে হবে, নিজের দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা দিয়ে কাজ করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও সরবরাহে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই ২০২০) সকালে সচিবালয়স্থ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে তার দপ্তর কক্ষে কোরবানির পশুর হাটে সুস্থ-সবল গবাদিপশু সরবরাহ ও বিক্রয় নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত এক অনলাইন সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রেজাউল করিম বলেন, আমাদের প্রতিবছর কিছু খারাপ অভিজ্ঞতা হয়। কোরবানির পশু পরিবহণে রাস্তায় চাঁদাবাজি হয়, দীর্ঘসময় প্রাণীকে ট্রাকে আটকে রাখতে হয়। এবার আমরা চাই কোনরকম চাঁদাবাজি হবে না। যে অঞ্চলে সুযোগ আছে সেখান থেকে ট্রেনে পরিহণ হবে। খামারিদের খামারে পশু বিক্রয় হলে সেখান থেকে ইজারাদার টোল আদায় করতে পারবে না।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, এবছরও দেশে কোরবানির জন্য গবাদিপশুর পর্যাপ্ত যোগান রয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এ বছর ১ কোটি ১৮ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫০০টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য মজুদ রয়েছে। যার মধ্যে হৃষ্টপুষ্টকৃত গরু-মহিষের সংখ্যা ৪৫ লক্ষ ৩৮ হাজার এবং ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ৭৩ লক্ষ ৫৫ হাজার ও অন্যান্য ৪ হাজার ৫০০টি। কোরবানির জন্য কোন অবস্থাতেই বিদেশ থেকে গবাদিপশু আনার অনুমতি দেয়া হবে না। করোনার কারণে গবাদিপশু বিপণনে এবছর আমরা অনলাইন বাজারের উপর জোর দেয়ার চেষ্টা করছি।”

তিনি আরও বলেন, গবাদিপশু বিপণন ও পরিবহণ সমস্যা সমাধানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে হটলাইন স্থাপন করা হবে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক হটলানে সম্পৃক্ত হবেন। গবাদিপশুর বাজারগুলোতে প্রায় ১২০০ মেডিকেল টিম কাজ করবে, যাতে রুগ্ন গবাদিপশু বাজারে না আসতে পারে। একইসাথে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। কোরবানির হাটে স্বাস্থ্যবিধি প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোরবানির সময়ে খামারিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সহায়তা করার জন্য মাঠ পর্যায়ের সকল প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের এসময় নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। কোনভাবেই যেনো একজন খামারি, বিক্রেতা বা সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন মন্ত্রী। এ সময় কোরবানি সংশ্লিষ্ট সরকারের সকল বিভাগকে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদানেরও অনুরোধ জানান তিনি।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (০৯  জুলাই ২০২০) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪১ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। ফলে ভাইরাসটিতে মোট ২২৩৮  জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩০৭ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৭৫  হাজার ৪৯৪ । আজ নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৫ হাজার ৬৩২ টি যা গতদিনে ছিল ১৫ হাজার ৬৭৫ টি । ‘২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ৭০৬ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৮৪ হাজার ৫৪৪ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে ৪১ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু দাঁড়ালো ২ হাজার ২৩৮ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। মৃত্যু বিশ্লেষণে পুরুষ ২৯ জন এবং নারী ১২ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন পুরুষ ১ হাজার ৭৭০ জন এবং নারী ৪৬৮ জন।’

আমাদের বাণী ডট কম/০৯  জুলাই  ২০২০/পিপিএম 

সৈয়দপুরের বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।