শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে কিরণ নগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন না করার জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছেন মহামান্য হাই কোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ। গত ১ জুলাই উচ্চ আদালতের বিচারপতি শেখ হাসান আলী ও রাজিক আল জলিল রিটের শুনানী শেষে আগামী ছয় মাসের জন্য কিরণ নগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নামকরণ পরিবর্তনের সকল প্রকার কার্যাদি স্থগিত করার আদেশ প্রদান করেন। তার পরেও আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঝুলানো হয়েছে বিদ্যালয়ের মূল ফটকে নতুন সাইনবোর্ড।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ মাসুম বালা ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান কিরণ ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার কিরণ নগর গ্রামে দেড় একর জমি দান করে কিরণ নগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৪ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। এরপর ২০১৯ সালের জুন মাসে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান শাহ জালাল মাল সহ তিন জনের স্বাক্ষরিত কিরণ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় নাম পরিবর্তন করে দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়ন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় নামকরন করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে একটি আবেদন করেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন ঢাকা শিক্ষাবোর্ড থেকে সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে গত ১৭ জুন তারিখে পরিদর্শন প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং ১৮ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক) বরাবরে প্রেরণ করেন।

১৮ জুন তারিখে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শফিকুর রহমান কিরণ ‘কিরণ নগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’ এর নাম পরিবর্তন না করার জন্য মহামান্য উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করেন। তারই প্রেক্ষিতে গত ১ জুলাই হাই কোর্ট রিটের শুনানী শেষে আগামী ছয় মাসের জন্য কিরণ নগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নামকরণ পরিবর্তনের সকল প্রকার কার্যাদি স্থগিত করার আদেশ প্রদান করেন। এই আদেশ সহ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শফিকুর রহমান কিরণ গত ৯ জুলাই মহামান্য হাই কোর্টের রীট পিটিশন নং৭০৭০/২০১৯ এর আদেশের কপি সহ কিরণ নগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নামকরন পরিবর্তন না করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরে আবেদন করেন। কিন্তু সদ্য আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই বিদ্যালয়ের পুরনো সাইনবোর্ডটি নামিয়ে লাগানো হয়েছে নতুন সাইনবোর্ড। এছাড়াও শফিকুর রহমান কিরন একই স্থানে প্রতিষ্ঠা করেন কিরন নগর প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে আরো একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে কিরন নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়ে গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, পশ্চাদপদ এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নীত করতে ১৯৯৭ সালে কিরণ নগরে একই সাথে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় নিজ অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা করি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয় দুটি অত্যান্ত সুনামের সাথে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দান করে আসছে। ইতিমধ্যে এই দুইটি প্রতিষ্ঠান থেকে বহু শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া-শুনা করে সরকারী উচ্চ পদে চাকুরী করছে।

এখানে উল্লেখ্য যে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ইতিমধ্যে জাতীয়করণ হয়েছে। কিন্তু ইদানিং একটি কুচক্রি মহল পেশী শক্তি ব্যবহার করে কিরণ নগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়টিকে ধ্বংস করার পায়তারা করছে। তারই ফলশ্রুতিতে প্রথমে তারা স্কুলের নাম পরিবর্তনের একটি নোংড়া খেলায় মেতেছে। যা এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকী স্বরুপ। আমি আরও জানতে পেরেছি যে ওই কুচক্রি মহলটি আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইতিমধ্যে ওখানে দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইনিয়ন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় নামে সাইন বোর্ড ঝুলিয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে আমার দাবি, এই স্কুলটিকে রক্ষা করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার আলো ছড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।