ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা; সরকারে নেই, সংসদে প্রতিনিধিও নেই; রাজনৈতিক মাঠেও অনেকটা অনুপস্থিত যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দল জামায়াত। তার পরও সরকারি বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজে বেশ সক্রিয় দলীয় নেতাদের সিন্ডিকেট। যেমনটি দেখা যাচ্ছে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে। সর্বনিম্ন দরদাতা না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে ত্রাণের টিনের টেন্ডার বাগিয়ে নিচ্ছেন জামায়াতের এক নেতা। তার সঙ্গে অবশ্য ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মী এবং মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কয়েক কর্মকর্তা রয়েছেন বলে অভিযোগ। এবারও সর্বনিম্ন করদাতাকে বাদ দিয়ে জামায়াত নেতার আশীর্বাদপুষ্ট দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে ত্রাণের টিনের টেন্ডার দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এতে সরকারের অন্তত ১২ কোটি টাকা লোকসান হবে বলে জানিয়েছেন কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, পল্টন এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জামায়াত নেতা আবদুর রব কিছু চিহ্নিত ট্রেডিং ফার্ম ও নামসর্বস্ব কোম্পানি দিয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের টেন্ডারে অংশ নেন। এবার অবশ্য নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে টেন্ডারে অংশ না নিয়ে অ্যাপোলো ইস্পাতসহ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্র দাখিল করেন। গত ২৮ মে ওই দরপত্র খোলা হয় এবং কর্ণফুলী গ্যালভানাইজিং মিলস সর্বনিম্ন দরদাতা
হিসেবে বিবেচিত হয়। তার পরও কাজটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা অ্যাপোলো ইস্পাতকেই দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গত রবিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরে অভিযোগ করে কর্ণফুলী।
অভিযোগ আছে, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও তখনকার মন্ত্রীর ছেলেকে ব্যবহার করে মন্ত্রণালয়ের কাজ বাগিয়ে নেন জামায়াত নেতা আবদুর রব। তখনো সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়নি। তখন একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদুক) তদন্তও শুরু করে। এবারও (২০১৯-২০ অর্থবছর) আগের বছরের তুলনায় কম দামে দেশের স্বনামধন্য কোম্পানি ‘টিকে’ গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যালভানাইজিং মিলস লিমিটেডের পক্ষে দরপত্র দাখিল করা হয়। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের পর ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির সভায় তা উত্থাপন হওয়ার পরও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ করদাতা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর কারণ হিসেবে দেখানো হয় অভিজ্ঞতার সনদ সঠিকভাবে দাখিল করেনি সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে তাদের সরাসরি অভিজ্ঞাতাও নেই। তাদের সঙ্গে দ্বিতীয় দরদাতার টিন সরবরাহের দামের পার্থক্য ১২ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে টিকে গ্রুপের প্রতিনিধি মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সরকারের পাশে থাকতে চাই। করোনা মহামারীর মধ্যে আমরা সাশ্রয়ী মূল্যে সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন ত্রাণের টিন দিতে চাই। কর্ণফুলীর শত শত কোটি টাকার টিন সরবরাহেরও অভিজ্ঞতা রয়েছে। এমনকি সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়ার পরও আমাদের কাজ না দিয়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে আমরা শুনতে পেরেছি।’
এদিকে আবদুর রবের চারটি মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একবার অবশ্য তার স্ত্রী পরিচয় দেওয়া এক নারী ফোন রিসিভ করেছিলেন। পরিচয় দিয়ে আবদুর রবের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওই নারী বলেন, ‘ওনার (আবদুর রব) সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলে আপনার বিষয়টি জানাব।’
অভিযোগের বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আতিকুল হক আমাদের সময়কে বলেন, ‘অভিযোগটি পেয়ে তা আমলে নিয়েছি। আমরা সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করব। পণ্যের গুণগতমান, আইন ও অর্থ সাশ্রয়Ñ তিনটি বিষয়ই দেখা হবে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান করোনা মহামারীতে অর্থনীতির যে অবস্থা, এ সময় কেউ ১২ কোটি কেন ১২ লাখ টাকা বেশি খরচ করারও ঝুঁকি নেবে না।’ সূত্র; আমাদের সময়
