মাত্র ৮০ হাজার টাকার বিনীময়ে সালিশে ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলা রফা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৪০ হাজার টাকা- বলে জানিয়েছেন ওই ধর্ষকের পরিবার।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে নড়াইল সদরের মাইজপাড়া ইউনিয়নের বোড়ামারা গ্রামের মান্নান শিকদারের বাড়িতে এক শালিশে এই ফয়সালা হয়।

মাইজপাড়া ইউনিয়ন অওয়ামী লীগের সভাপতি স্থানীয় সলেমান মোল্যার সভাপতিত্বে ওই সালিশে আরো উপস্থিত ছিলেন, আলি মিয়া, বক্কার মোল্যা, আজিজার মোল্যা, আবু তাহের মোল্যা, মোনায়েম শেখ মোল্যা, ধর্ষক ও ভিকটিমের পরিবারের লোকজনসহ আরো ২৫/৩০ জন।

সরেজমিন শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বোড়ামারা গ্রাম ঘুরে এসব তথ্যের সত্যতা মিলেছে।

ধর্ষণের শিকার শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১ম দফা ৭ ডিসেম্বর, ২য় দফা ১১ ডিসেম্বর সালিশে একলক্ষ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে ৩য় দফা সালিশে ৮০ হাজার টাকায় রফা হয়। এরমধ্যে ১০ হাজার টাকা গ্রাম্য সালিশকারীরা পাবে। বাকি ৭০ হাজার পাবে ভিকটিমের পরিবার। এছাড়া পুলিশের জন্য যা করা দরকার তা আসামিপক্ষ করবে- এই মর্মে সালিশে সিদ্ধান্ত হয়।

ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা জানান, সালিশের সভাপতি সলেমান মোল্যার কাছ থেকে তিনি ৭০ হাজার টাকা বুঝে পেয়েছেন। পুলিশের অংশ আসামিরা মেটাবে।

মামলা প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ঘটনা শুনে আমার মাথা ঠিক ছিলো না, তাই মামলা করেছি। এখন গ্রামের লোকের চাপে সালিশে মীমাংসা করতে বাধ্য হয়েছি।

এদিকে ধর্ষক আমজাদ মামলার পরদিন থেকেই পলাতক রয়েছেন। তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে সালিশ হয়েছ, শুক্রবার-শনিবার কোর্ট বন্ধ। রবিবার পুলিশের মাধ্যমে এই মামলা মিটবে, তাই আমজাদ এখনো পলাতক।

আমজাদের স্ত্রী পিয়ারী বেগম বলেন, মোট ৮০ হাজার টাকায় গ্রাম্য মাতব্বরেরা সালিশ মীমাংসা করেছে। মাতুবররা বলেছেন, অর্ধেক টাকা বাদীর পরিবার পাবে, আর বাকি ৪০ হাজার টাকা পুলিশের মাধ্যমে মামলা নিস্পত্তি করা হবে।

এ সময় সালিশে মীমাংসাকারী গ্রাম্য মাতবর মোনায়েম শেখ সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তেড়ে আসেন। সালিশে তার অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি সালিশে থাকার বিষয়ে অস্বীকার করে উল্টো বলেন, এগুলো সাংবাদিকের কাজ না, আপনারা এখান থেকে চলে যান, নাহলে খুব ভালো হবে না।

ধর্ষণ মামলা সালিশে বিচার করা প্রসঙ্গে মাইজপাড়া ইউনিয়ন অওয়ামী লীগের সভাপতি সলেমান মোল্যা বলেন, আগে দুই দফা বসা হয়েছিলো, তেমন ফয়সালা হয়নি। বৃহস্পতিবার মাতব্বরেরা আসেনি বলে আমি চলে এসেছি।

মাইজপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, এ ধরনের সালিশের ঘটনা আমার কানে আসেনি। তবে এটি যদি হয়ে থাকে তবে অবশ্যই অন্যায় হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নড়াইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা বলেন, এ ধরনের মামলা আপোষযোগ্য নয়। স্থানীয় মাতব্বরেরা পুলিশের নাম ভাঙাতে পারে। তাতে আমাদের কি করার আছে? আমরা যথানিয়মে মামলার চার্জ গঠন করবো।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ধর্ষণ মামলা হয়েছে, এটি যথাযথভাবে চলবে। মীমাংসার কোন খবর আমার কানে আসেনি।

উল্লেখ্য, গত ২ ডিসেম্বর দুপুরে আমজাদ মুন্সীর হাতে শারীরিকভাবে হেনস্থার শিকার হয় শিশুটি। এ ঘটনায় ৩ ডিসেম্বর শিশুটির বোন মাবিয়া বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। সৌজন্যে বিডি টুডে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।