নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা; রাজধানীর মিরপুরের একটি ভবন লকডাউন করা হয়েছে। পুলিশ ওই বাসা ঘিরে রেখেছে। ওই ভবন ও তার আশপাশে চলাচলও সীমিত করা হয়েছে। ওই ভবনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগীর পরিবার রয়েছে উল্লেখ করে আইইডিসিআর থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যেন ওই ভবন থেকে কেউ বের হতে না পারে।
আজ শনিবার (২১ মার্চ ২০২০) বিকেল পৌন ৪টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশের মিরপুর বিভাগের ডিসি মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, মিরপুরের একটি ভবনে একটি পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক পালনের নির্দেশনা দিয়েছে আইইডিসিআর। সেজন্য ভবনটি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ওই ভবন থেকে যেন কেউ বের হতে না পারেন। ওই ভবনে প্রবেশ সংরক্ষিত ও এলাকায় চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলাকে ‘লকডাউন’ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২০) বিকেলে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
অন্যদিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এখনই ১৫ দিনের জন্য দেশকে লকডাউন করার দাবি করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। আজ শনিবার (২১ মার্চ ২০২০) দুপুরে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়।
ঐ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাস আতঙ্ক সৃষ্টি ও ব্যবহার করে বাংলাদেশে অসাধু ব্যবসায়ীদের চক্র ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণহীন মুনাফায় লিপ্ত হয়েছে। দিন আনা দিন খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ ইতোমধ্যেই কর্ম হারিয়েছেন। সরকার গোঁজামিল দিয়ে, ‘দেখি কি করা যায়’ এই নীতি নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারবে না। এভাবে চললে সবকিছুই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
করোনাভাইরাসের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ পলিটব্যুরোর সদস্যরা বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সরকার সম্বন্বিত সংকট মোকাবিলা করার সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারছেনা । সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও তার মন্ত্রীদের অতিকথন পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করছে। বাস্তবতার সঙ্গে তাদের কথা ও কাজ মিলেছে না। করোনা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উপকরণ স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রদান করা হয়নি, এমনকি ন্যূনতম যে প্রশিক্ষণ লাগে সে ব্যবস্থাপনাও গড়ে তোলা যাচ্ছে না। চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রস্তুতির অভাবে নিজেরাই আতঙ্ক এবং মানসিক পীড়ায় আছেন।
ওয়ার্কার্স পার্টি পলিটব্যুরো সুনিদিষ্টভাবেই মনে করে, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া যেভাবে করোনা সংকট মোকাবিলা করেছে সেই পথে অত্যন্ত বলিষ্টতার সংগে সারাদেশ ১৫ দিনের জন্য লকডাউন করে জনগণের খাদ্য, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা ও শ্রমজীবী দরিদ্র মানুষের প্রতিদিনের খাদ্য চাহিদার পরিপূরণের ব্যবস্থা করবে। জনগণ করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের বলিষ্ঠ ভূমিকা কামনা করছে।
এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রয়োজনে লকডাউন করার কথা ভাবছে সরকার। কারণ এই তিন জেলায় ইতালি থেকে সবচেয়ে বেশী এসেছে প্রবাসীরা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক । এ নিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুজন মারা গেলেন।
আজ শনিবার (২১ মার্চ ২০২০) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
জাহিদ মালেক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাতে আরও চারজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ফলে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। সারাদেশে ১৪ হাজার জন আছেন হোম কোয়ারান্টাইনে। প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫০ জন।
আমাদের বাণী ডট কম/২১ মার্চ ২০২০/সিপি
