নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা;  বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো সংশোধনে গঠিত কমিটির পঞ্চম সভা আগামীকাল বুধবার (১১ মার্চ ২০২০) অনুষ্ঠিত হবে।

এমপিও নীতিমালা কমিটীর এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো সংশোধনে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ।

গতকাল (০৯ মার্চ ২০২০) সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রে জানায়, কোন কোন দিক থেকে এমপিও নীতিমালা সংশোধন বা সংস্কার করা যেতে পারে সে বিষয়ে বুধবার সকালে এ  সভায় আলোচনা করবে কমিটি। এছাড়া প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ সভার আলোচনা নিয়েও পঞ্চম সভায় আলোচনা করা হবে। এছাড়াও এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘদীনের দাবি বদলী প্রথা চালুর বিষয়েও এ কমিটিতে আলোচনায় উঠতে পারে বলে জানা গেছে। ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮’ শীর্ষক এ নীতিমালা ২০১৮ সালের১২ জুন প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়। এই নীমালায় বলা হয়েছিল  সরকার প্রয়োজন মনে করলে বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি করতে পারবে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের বদলির কোনো বিধান নেই।

গত  ৭ জানুয়ারি এমপিও নীতিমালা কমিটির চতুর্থ সভায় প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে অভিজ্ঞতার যোগ্যতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এমপিওভুক্তি নয় যোগদানের তারিখ থেকে শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা গণনা করার সুপরিশ করা হয়েছে নীতিমালা সংশোধন কমিটির কাছে। এছাড়া এমপিওভুক্তিতে প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা হিসেবে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে সেদিনের সভায়। এছাড়া সহকারী শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। যদিও এসব বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি এমপিও নীতিমালা সংশোধন কমিটির চতুর্থ সভায়।

এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো সংশোধনে গঠিত কমিটির তৃতীয় সভায় বেসরকারি কলেজের প্রভাষকদের পদোন্নতিতে অনুপাত প্রথা বাতিলের বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছায় এমপিও নীতিমালা সংশোধনে গঠিত কমিটি। সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে, অনুপাত প্রথা বাতিল করে কি পদ্ধতিতে প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদোন্নতি দেয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি কমিটি। এছাড়া সভায় এমপিওভুক্তির শর্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সংখ্যা নিয়ে আলোচনা হয়।

বিদ্যমান এমপিও নীতিমালায় একক শ্রেণি বা শাখার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী সংখ্যা ন্যূনতম ৫০ জন ও পরবর্তী শাখার জন্য ন্যূনতম ৪০জন শিক্ষার্থী থাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এ সংখ্যা একক শ্রেণির ক্ষেত্রে ৪০ ও পরবর্তী শাখার ক্ষেত্রে ৩০ করার প্রস্তাব করা হয় নীতিমালা সংশোধন কমিটির তৃতীয় সভায়। কমিটির কর্মকর্তা সদস্যরা শিক্ষার্থী সংখ্যা কমানোর বিষয়ে সহনশীল, তবে, কতজন কমানো হবে সে বিষয়ে আজকের সভায় সিদ্ধান্ত হয়নি।

এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর এমপিও নীতিমালা সংশোধন কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।   গত ৪ ডিসেম্বর এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো সংশোধনে গঠিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এমপিওভুক্তির যোগ্যতা হিসেবে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থী সংখ্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ নভেম্বর বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো সংশোধনে ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এক মাসের মধ্যে এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করতে বলা হয়েছে এ কমিটিকে। কমিটিতে ননএমপিও শিক্ষক নেতারাও সদস্য হিসেবে আছেন। স্কুল-কলেজের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো সংস্কারের সুপারিশ করবে এ কমিটি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদকে ১২ ডিসেম্বর গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়।

আমাদের বাণী ডট কম/১০ মার্চ ২০২০/ডিসি 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।