নিজস্ব সংবাদদাতা, বরগূনা; বিশ্বব্যাপী দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত বিশ্বের প্রতিটি দেশেই যেন বিদ্যুতের গতিতে এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এর সংখ্যা। সাথে লাশের মিছিলও হচ্ছে বড়। তবে করোনার আক্রান্তের মধ্যেও থেমে নেই এনজিওদের ঋণ আদায়।
বরগুনার তালতলীতে করোনা ভাইরাসের সতর্কতার জন্য সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বন্ধ হয়ে গেছে কর্মজীবীদের কর্মসংস্থান। করোনা সতর্কতায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী, তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মরত শ্রমিক, রিকশা শ্রমিক ও গার্মেন্ট শ্রমিকদের পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন চলছে দূর্বিসহ।
অন্যদিকে ঋণের বোঝা মাথায়। কারও প্রতিদিন আর কারও সাপ্তাহিক কিস্তি দেয়ার চাপ রয়েছে মাথায়।
তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়েকটি সেক্টরের শ্রমিকদের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঋণের কিস্তির চাপে তারা এখন বিভিন্ন বাসা-বাড়ির কাজের জন্য ছুটছে গ্রামে। করোনা সতর্কতায় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধসহ সকল শ্রমিকদের কাজকর্ম বন্ধ হওয়ার ঘোষণার আগে দেশের বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংকের ঋণের কিস্তি বন্ধ করার প্রয়োজন।
এ সকল কিস্তি বন্ধ না করলে নিরহ মানুষগুলো করোনায় নয়, কিস্তির জ্বালায় মরবে। করোনার এ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যাংক ঋণ ও এনজিওগুলোর কিস্তি বন্ধের দাবি স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের।
এদিকে জেলা জুড়ে চিত্র একই। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যেন ঋণের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ৩৩ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন তিনজন। ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন পাঁচজন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২৫ জন। মোট আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জনের দীর্ঘমেয়াদি রোগব্যাধি রয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৩৩ জনের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ ১৫ জন আক্রান্ত হন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাদারীপুরে ১০ জন, নারায়ণগঞ্জে তিনজন, গাইবান্ধায় দুজন, কুমিল্লায় একজন, গাজীপুর ও চুয়াডাঙ্গায় একজন করে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে।
আজ সোমবার (২৩ মার্চ ২০২০) বিকেলে করোনাভাইরাস-সংক্রান্ত অনলাইন লাইভ ব্রিফিংয়ে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।
আমাদের বাণী ডট কম/২৩ মার্চ ২০২০/টিএ
