শামীম হাসান, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা; করোনায়ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নিত্যানন্দ বর (৬৬) নামে ফরিদগঞ্জ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত এক কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অবসর প্রাপ্ত প্রভাষক নিত্যানন্দ বর ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেণ।
- ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজে শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত ছিলেন তিনি। একাদারে তিনি হোমিও চিকিৎসক ও ছিলেন। শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ করার পর তার নিজস্ব একটি চিকিৎসালয়ে নিয়মিত হোমিও চিকিৎসা প্রদান করে আসছিলেন।তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলায়।
অত্র কলেজের আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক মোবারক করিম খান আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দির্ঘ্য দিন অসুস্থ থাকার পর শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে শুক্রবার (২৯মে) ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হয়ে রবিবার(৩১মে) তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
- তথ্য সূত্রে জানা যায়,অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক নিত্যানন্দ বরের করোনা পরীক্ষায় রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুর পর তার লাশ ঢাকাতেই সৎকার করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে তাকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় সৎকার করা হয় বলে জানা যায়। একই পরিবারের তার স্ত্রী ও দুই ছেলের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
কলেজের সাবেক ও বর্তমান একাধিক শিক্ষার্থী জানান, প্রভাষক নিত্যানন্দ বর শুধু একজন ভালো শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন নম্র, ভদ্র ও মিশুক প্রকৃতির। ব্যক্তিত্বের গুণাবলী দিয়ে তিনি সকলের মন জয় করেছেন।
তার মৃত্যুতে ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়।
এদিকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (০১ জুন ২০২০) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২২ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ৬৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৩৮১ জন । এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৯ হাজার ৪৭ হাজার ৫৩৪ জনে। দেশে ৫২টি ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ১০৪টি এবং পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ হাজার ৪৩৯টি। আক্রান্তের হার ২০.৮১ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮১৬ জন এবং এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১০ হাজার ৫৯৭ জন। সুস্থতার হার ২১.৩৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১.৩৬ শতাংশ। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, পুরুষ ১৯ জন ও নারী তিনজন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের আটজন, সিলেট বিভাগের দুইজন ও বরিশাল বিভাগের একজন। বয়স বিশ্লেষণে জানা যায়, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন ৪১-৫০ আটজন, ৫১-৬০ চারজন, ৬১-৭০ সাতজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন। হাসপাতালে মারা গেছেন ১৬ জন, বাড়িতে পাঁচজন ও হাসপাতালে আনার পথে একজন।
আমাদের বাণী ডট কম/০১ মে ২০২০/সিসিপি
