ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা; মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর-সিরাজদিখান উপজেলার একমাত্র হাসাড়া হাইওয়ে থানার ডিউটিরত পুলিশের এস. আই রফিকুল ইসলামের কাণ্ডে হতবাক একটি অন্তঃসত্ত্বা রোগীর পরিবার। কোনো গাড়ি না পেয়ে নিজস্ব সিএনজি দিয়েই অন্তঃসত্ত্বা সুমাইয়াকে (২২) বরিশাল হিজলা নিজ বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

আজ বুধবার (০৬ মে ২০২০)  সকাল ১১টার সময় সিএনজি আটকিয়ে অন্তঃসত্ত্বা যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি ঘটে।

মাওয়া পৌঁছে দিতে রওয়ানা হয়েছেন ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে। বেরসিক এস. আই রফিকুল ইসলাম পুলিশ হাইওয়ে টোলপ্লাজার আসার পর সিএনজিটি আটকিয়ে দেয়। অন্তঃসত্ত্বা রোগীর কথা বললেও ঐ অবস্থায়ই ঐ রোগীকে নামিয়ে দেয় হাইওয়ে থানার এই এস.আই। এমন অমানবিক কাজে হতবাক হয়েছে তার পরিবার।

সুমাইয়ার বাবা মো: লিটন জানান, আমার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা। তার ডেলিভারি দিনক্ষণ কাছাকাছি ঘনিয়ে আসছে। তাই বাড়িতে নিয়ে আসলাম। ঢাকায় সেবা দেওয়ার লোকজন নেই। নিরাপদ ডেলিভারির জন্যই বাড়িতে নিয়ে আসা।

অন্তঃসত্ত্বা সুমাইয়ার দেবর জানান, তিনি এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তাকে নেয়ার জন্যই সিএনজির ব্যবস্থা করা হয়। ঐ সিএনজি দিয়েই ভাবীকেও নিরাপদ ডেলিভারীর জন্য বরিশাল হিজলা থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সিএনজিতে তিনজন যাত্রী ছিল। এই তিনজনকে নিয়ে মাওয়া ঘাটে পৌঁছে দিলে সুমাইয়ার শ্বশুরবাড়ীর লোকজন বাড়িতে নিয়ে যাবেন।

তিনি আরো জানান, নিমতলার আগে হাইওয়ে টোলপ্লাজায় আসতেই গাড়িটি থামিয়ে দেয় পুলিশ। অন্তঃসত্ত্বা রোগীকে দেখেও তার মন গলল না। ভাবীকে নামিয়ে দিল। পরবর্তীতে কয়েকটি মোটর সাইকেল টাকার বিনিময় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তখন দায়িত্বরত পুলিশকে এ বিষয়ে বললে ৫০০ টাকা দিলে ছেড়ে দেওয়া হবে।

কিন্তু পরবর্তীতে সিএনজিটি না ছেড়ে হাইওয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় গাড়িটি। তিনি জানান, ওসি সাহেব বলেছে সাংবাদিকদের কেন জানিয়েছ। সাংবাদিকদের যেহেতু জানিয়েছ সেহেতু গাড়ি ছাড়া হবে না।

এ বিষয়ে এস.আই রফিকুল ইসলামের মোবাইলে বলেন, কয়জন যাত্রী ছিল তা আমি জানি না। একজন রোগী আছে বলেছে তবে অন্তঃসত্ত্বা কিনা তা বলেনি। টাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। পুলিশকে ঘায়েল করার একটা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

এ বিষয়ে হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাসেত জানান, ঘটনাস্থলে আমি গিয়েছি। তখন যে নারীকে পেয়েছি তিনি বলেছেন এই সিএনজি দিয়ে তার ছেলে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য যাওয়া আসা করার কথা জানিয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা কোন যাত্রীর কথা বলেননি। হাইওয়ে রোডে সিএনজি চালানো নিষেধ। তাই কর্তব্যরত পুলিশ সিএনজি আটকিয়েছে। টাকার চাওয়ার বিষয়টি বললে তিনি বলেন ৫০০ টাকার জন্য কোন পুলিশ গাড়ি আটকায় না।

হাসাড়া হাইওয়ে থানার দায়িত্বরত পুলিশের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ, মোটা অংকের টাকা ছাড়া কোনো গাড়িই ছাড় দেয়া হয় না। সূত্র; নয়া দিগন্ত

আমাদের বাণী ডট কম/ ০৬ মে ২০২০/ডিএ 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।