ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার রুহিয়া থানায় সরকারি অনুমোদন ছাড়া ও কোন নিয়ম-নীতি না মেনেই যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ইটভাটা। কৃষি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বনাঞ্চল ও পাকা সড়ক ঘেঁষেই গড়ে তোলা হয়েছে এসব ইটভাটা। ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য কেটে নেয়া হচ্ছে কৃষি জমির টপ সয়েল। ইট ভাটা নির্মাণ করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন নিয়ম-নীতিও মানা হচ্ছে না। অধিকাংশ ইটভাটারই নেই পরিবেশ ছাড়পত্র ও নেই লাইসেন্স। ফলে ইটভাটা এলাকায় কৃষি জমি এখন চরম বিপর্যয়ের শঙ্কায় রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী রুহিয়া থানায় কয়েকটি ইটভাটা থাকলেও কোনটিরও বৈধ কাগজপত্র নেই। যদিও রুহিয়া থানায় ৮টি ইট ভাটা রয়েছে, এদের ১টিরও কোন পরিবেশ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স নেই। ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে আগুন দেয়ার সময় পোড়ানো হচ্ছে টায়ার ও জ্বালানি কাঠ। এছাড়া ইটের ভাটায় কাঁচামাল হিসেবে কৃষি জমির টপ সয়েল ব্যবহারের কারণে উর্বরতা হারাচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমি।

ভূমি ব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের চুক্তিপত্র, কৃষি অধিদফতরের নীতিমালার কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না রুহিয়া থানার এসব ইটভাটায়। এতে চরম হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ, কৃষি জমি, রাস্তাঘাট ও বনাঞ্চল। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) ২০১৩-এ বলা হয়েছে- লাইসেন্স ছাড়া ইট ভাটা নির্মাণ করা যাবে না। কোন ব্যক্তি ইট প্রস্তুতে কৃষি জমি কেটে মাটি ব্যবহার করতে পারবে না। অনুমতি ছাড়া খাল, পুকুর, নদীর পাড় কিংবা চরাঞ্চল কেটে মাটি সংগ্রহ করতে পারবে না। এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত কোন সড়ক ইট ও মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কোন ধরনের কাঠ পোড়ানো যাবে না। এমনকি মান সম্পন্ন কয়লা পোড়াতে হবে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, কৃষি জমি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এবং হাট-বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে ইটভাটা। এসব ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় কৃষি জমিতে ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে, এতে কৃষকসহ সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

রুহিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, এই উপজেলায় অধিকাংশ ইটভাটা নিয়ম-নীতি মেনে নির্মাণ করা হয়নি। এ কারণে তাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য কৃষি অধিদফতর থেকে কোন প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়নি। ইটভাটার কারণে কৃষি জমির অনেক ক্ষতি হচ্ছে।

মন্ডলাদামগ্রামের মুন্সী ব্রিকস ইটভাটার মালিক মোঃ মনসুর জানান, পরিবেশ অধিদফতরে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কেউই ছাড়পত্র ও লাইসেন্স পায়নি। তবে অবৈধভাবে এসব ইটভাটা কিভাবে চলছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিটি ইটভাটা মালিক প্রতি বছর উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির মাধ্যমে প্রশাসনসহ সবকিছু ম্যানেজ করেন।

অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে কিনা প্রশ্নে, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জিামান সেলিম বলেন, সারাদেশে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে যেভাবে অভিযান চলছে, ঠাকুরগাঁও জেলায় তেমনিভাবে অভিযান চালানো হবে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।