দেশের শতকরা ৬১ ভাগ পথশিশু কখনোই আনুষ্ঠানিক বা উপানুষ্ঠানিক বিদ্যালয়ে যায়নি। স্কুলে যাওয়া পথশিশুদের ২৩ ভাগ ভর্তি হওয়ার পর প্রথম শ্রেণী শেষ করার আগেই ঝরে পড়ে। মাত্র ৬ ভাগ শিশু পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পেরেছে। খোলা আকাশের নিচে ঘুমানোর পরও ৫৬ শতাংশ পথশিশুদের মাসিক ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা দিতে হয় নৈশপ্রহরী ও মাস্তানদেরকে।
মঙ্গলবার ময়মনসিংহের কারিতাস মিলনায়তনে ‘আমাদের পথশিশু এবং আমাদের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় পঠিত প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন সংস্থার জরিপের বরাত দিয়ে প্রবন্ধে বলা হয়, ৩৫ ভাগ পথশিশু তিন বেলা খাবার খেতে পারে না। ৮৮ ভাগ শিশু রাস্তা থেকে খাবার কিনে খায়। ৫ ভাগ শিশু রেস্টুরেন্ট থেকে চেয়ে খায় এবং এক ভাগেরও কম পথশিশু ডাস্টবিন থেকে খাবার জোগাড় করে।
৪০ ভাগ শিশু নিয়মিত গোসল করে না। ৩৫ ভাগ শিশু খোলা জায়গায় মল ত্যাগ করে। ৫৪ শতাংশ অসুস্থ হলে দেখার কেউ নেই এবং ৭৫ শতাংশ শিশু অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে যেতে পারে না। পথে থাকা প্রায় ৪৪ শতাংশ শিশু মাদকাসক্ত এবং চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে। এ ছাড়া মোট পথশিশুর ৭৮ ভাগ পথে কাজ করা শিশু এবং ২২ ভাগ পথে থাকা শিশু পরিবারের সাথে বসবাস করে। এদের বেশির ভাগই বস্তিতে থাকে।
কারিতাস আঞ্চলিক পরিচালক অপূর্ব ম্রংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো: মিজানুর রহমান। এ সময় বক্তৃতা করেন সমাজসেবার উপপরিচালক আবু আবদুল্লাহ ওয়ালীউল্লাহ, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: পরীক্ষিত কুমার পাড়, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন, জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, সিনিয়র অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত, মহিলা পরিষদের সভাপতি মুনিরা বেগম প্রমুখ।
