নীলফামারীর সৈয়দপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে জাতীয় পরিচয় পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়স জাল করে সাহায্যকারী পদে সাত বছর ধরে এক মহিলা চাকুরী করছে বহাল তবিয়তে। নেসকো কর্তৃপক্ষের স্থানীয় কর্মকর্তাদের এ ঘটনায় মদদ আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আসল জাতীয় পরিচয়পত্রে ওই মহিলার নাম রামপুরী। পিতার নাম পরমেশ্বর রাম, মাতার নাম সুন্দরী দেবী, স্বামীর নাম মিন্টু রাম ও জন্ম তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারী ১৯৭৭ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিরক্ষর লেখা রয়েছে।  তার এনআইডি নম্বর ৭৩১৮৫২৭০৮২০৬৪। জাল জাতীয় পরিচয়পত্রে এনআইডি নম্বর ঠিক থাকলেও রামপুরী নাম পরিবর্তন করে মোছা. রাজিয়া বেগম ও জন্ম তারিখ এক জুলাই ১৯৮৪ করা হয়েছে।

এদিকে শহরের কয়া গোলাহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পাশের যে সনদপত্র নেয়া হয়েছে তাতে মোছা. রাজিয়া খাতুন, পিতার নাম আবুল হোসেন ও মাতার নাম সুন্দরী লেখা রয়েছে। এই সনদপত্রটিও জাল করা হয়েছে।

দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৩ আগস্ট বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দপ্তরাদেশ মতে (যার সূত্র নং- ১১৯-বিউবো (কর্ম)/৫/মজুরী-২০/২০০৩) সারাদেশে সাহায্যকারী পদে ৩৪ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কর্মচারীরা এর আগে সুইপার বা ঝাড়–দার হিসাবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন দপ্তরে কাজ নেই মজুরী নেই অর্থাৎ আর এফকিউআর পদ্ধতিতে চাকুরী করে আসছিল। সে হিসাবে সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে মোছা. রাজিয়া বেগম ঝাড়–দার পদে চাকুরী করছিল। তাকেও সাহায্যকারী পদে নিয়োগের দপ্তরাদেশ আসে। কিন্তু দরপ্তরাদেশ আসার পরে সৈয়দপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে অত্যন্ত গোপনে প্রকৃত রাজিয়া বেগমকে চাকুরীতে যোগদান না করিয়ে রামপুরী নামে এক মহিলাকে তার এবং পিতার নাম ও জন্ম তারিখ পরিবর্তন এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র জাল করে রাজিয়া বেগম নামে রামপুরীকে চাকুরীতে যোগদান করার সুযোগ দেয়। এজন্য জাল করা হয় জাতীয় পরিচয়পত্রও। আর রামপুরী নাম পরিবর্তন করে রাজিয়া বেগম নামে ২০১২ সালের আগস্ট মাস থেকে অদ্যাবধি অবৈধভাবে চাকুরী করে আসছে। দীর্ঘ সাত বছরে বেআইনীভাবে ওই রামপুরী কোম্পানীর কমপক্ষে ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে রামপুরী (রাজিয়া বেগম) সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি নাম পরিবর্তনে সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে হাজারো কথা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার রবিউল আলম জানান, ওই এনআইডি পত্রে নম্বর ঠিক থাকলেও সেখানে রামপুরী নাম রয়েছে, রাজিয়া বলে কারও নাম নেই। একজনের চাকুরী আরেকজন জাতীয় পরিচয়পত্র জাল করে করছেন বিষয়ে জানতে কথা হয় নেসকোর (নর্দান ইলেকট্রিকস্ কোং) সৈয়দপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী তানজিমুল হকের সঙ্গে। তিনি জানান আমি এ অফিসে নতুন এসেছি বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।