বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) চাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার চার পলাতক আসামীর একজন সৈয়দপুর শহরের নিয়ামতপুর মুন্সীপাড়ার বাসিন্দা বুয়েটের সিই বিভাগের ছাত্র এহতেশামুল রাব্বি তানিম। তার পিতা শেখ মো. আবু কায়সার পিন্টু একজন ওষুধ ব্যবসায়ী।

শহরের তামান্না সড়ক মোড়ে তার ওষুধ দোকান রয়েছে। আবরার হত্যা মামলায় গ্রেফতার না হওয়া (পলাতক) সৈয়দপুরের তানিমসহ চার আসামীর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ তামিলের শেষ দিন ছিলো বৃহস্পতিবার।

এদিন সৈয়দপুর থানার পুলিশ আবরার হত্যা মামলার পলাতক আসামী এহতেশামুল রাব্বি তানিমের সম্পত্তির খোঁজ নিয়ে সম্পত্তির কোন হদিস পায়নি। তবে সৈয়দপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতের ক্রোকি আদেশ তামিলের প্রতিবেদন গতকাল বৃহস্পতিবার ই-মেইলে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে আসামী তানিমের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ সৈয়দপুর থানায় পৌঁছায়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই আদেশ তামিল করা হয়। পলাতক আসামী তানিমের কোন সম্পত্তির খোঁজ না মেলায় কোন সম্পত্তি ক্রোক করা হয়নি। এ সংক্রান্ত প্রাপ্ত তথ্যাদি আদালতে পাঠানো তামিল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে ঘটনাস্থল সৈয়দপুর শহরের নিয়ামতপুর মুন্সীপাড়াস্থ (সাবেক কনসার্ন অফিস সংলগ্ন) তানিমের বাড়িতে গেলে আদালতের ক্রোকি পরোয়ানা তামিলের কোন আলামত দেখা যায়নি।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান পাশার সঙ্গে বিকেলে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ক্রোকি কার্যক্রম করা হয়েছে। পলাতক আসামীর সম্পত্তি ক্রোক আদেশ তামিলের প্রতিবেদন গতকালই পাঠানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার ঢাকার পাঁচ নম্বর অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. কায়সারুল ইসলাম গত ৩ ডিসেম্বর তানিমসহ চার আসামীর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন। এ আদেশ তামিলের শেষ দিন ছিল গতকাল। এদিন ক্রোকি আদেশ তামিলের প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরারকে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন আবরারের বাবা ১৯ ছাত্রকে আসামী করে ঢাকার চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্তে পুলিশ মামলার ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ১৩ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ২৫ জনকে আসামী করে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে ১৮ নভেম্বর অভিযোগ পত্র গ্রহণ করে চার পলাতক আসামীকে গ্রেফতারের পরোয়ানা জারি করে গত ৩ ডিসেম্বর পরোয়ানা তামিলে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় তাদের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ জারি করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল আদেশ তামিলের প্রতিবেদন দাখিলের শেষ দিন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।