কয়েক দিনের ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক। বৃষ্টির পানি জমে গিয়ে সৃষ্ট জলজঠ এর কারণে চলাচল করতে পারছেনা কোনো যানবাহন। এতে করে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়ে এ সড়কে যাতায়তকারীরা।হাজারও যাত্রী আটকা পড়েছেন। আশেপাশের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন গ্রামবাসী।
টেকনাফ সড়কের বৃহত্তর থাইংখালী ও বালুখালীতে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ ও পানি চলাচলের ড্রেন জবরদখলপূর্বক বিভিন্ন স্থাপনা ও দোকান তৈরির কারণে এ দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। আগামী বৃষ্টিতে আরো দুর্ভোগের শঙ্কায় রয়েছে পথচারীরা।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ব্যস্ততম এ সড়কটির দ্রুত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্মাণাধীন ৫০ কিলোমিটার সড়ককে ২টি প্যাকেজে ভাগ করেছে। তার মধ্যে প্রথম প্যাকেজ ১শত ২২ কোটি টাকা চুক্তি সাপেক্ষে কক্সবাজার লিংক রোড থেকে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে টিসিসিএল এন্ড মেসার্স জামিল ইকবাল লি. নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। ২য় প্যাকেজ ১শত ৫৪ কোটি টাকা চুক্তি সাপেক্ষে উখিয়ার ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন থেকে টেকনাফের উনচিগ্রাং পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে তাহের ব্রাদার্স লি., হাসান টেকনো বিল্ডার্স লি. ও সালেহ আহমদ বাবুল নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে।
উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান হামিদুল হক চৌধুরী কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক সংস্কার কাজে দায়িত্বরত ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কের যে করুণ পরিনতি হয়েছে এমন অবস্থায় কোন লোকজন যদি মারা যায় তার দায়ী ভার সংশ্লিষ্টদের বহন করতে হবে। তাছাড়া সড়ক পথে যাত্রী সাধারণের অসহনীয় দুর্ভোগ ও নিত্য যানজট বর্ষার কারণে আরো দ্বিগুন বেড়েছে। এমতাবস্থায় নির্মাণ কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, এ সড়কটি উন্নয়নের জন্য এডিবি ৫৮০ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেওয়ার পরও কেন উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না তা নিয়ে জেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করার সম্মতি প্রকাশ করেছেন।
