সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শূন্য পদের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। সারাদেশে ৩৫৮ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০ হাজার ৬৪৮ জন সহকারী শিক্ষকের মধ্যে ১ হাজার ৯৬৯টি পদ শূন্য রয়েছে।

এর মধ্যে বাংলা বিষয়ে ৫৪৮ জন, ইংরেজিতে ১৭৯ জন, গণিতে ৭৭ জন, সামাজিক বিজ্ঞানে ৪৭ জন, ইসলাম ধর্মে ২৭৬ জন, ভৌত বিজ্ঞানে ২৫৩ জন, জীব বিজ্ঞানে ২৬৮ জন, ব্যবসায় শিক্ষায় ৭৫ জন, ভূগোলে ১২৯ জন, কৃষি শিক্ষায় ৭১ জন, শারীরিক শিক্ষায় ১০০ জন, চারুকলায় ১৯১ জন এবং অন্যান্য বিষয়ে ১৫১ শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

এছাড়া ২০১২ সাল থেকে কারিকুলাম ও সিলেবাস পরিবর্তনের কারণে বিদ্যালয়গুলোতে গত ৭ বছরে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। এগুলো হলো- তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি), শারীরিক শিক্ষা, কর্মমুখী শিক্ষা, চারু ও কারুকলা। এসব ক্ষেত্রেও কোনো বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে নেই। এক বিষয়ের শিক্ষক পড়াচ্ছেন অন্য বিষয়।

শুধু তাই নয়, হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে ২৩৬ জন ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ১২২টি পদ শূন্য রয়েছে। সবমিলিয়ে পদ সৃষ্টির পরও সারাদেশে মোট ২ হাজার ৩২৭ শিক্ষক সংকট রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ১৫ মে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তায় উন্নীত করেন। এতে শিক্ষক নিয়োগের মূল ক্ষমতা চলে যায় মাউশির বদলে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) হাতে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পিএসসিকে শিক্ষক নিয়োগের অনুরোধ করা হলেও এতদিন তাতে রাজি হয়নি পিএসসি। তারা জানিয়ে দেয়, নিয়োগবিধি গেজেট আকারে জারি না হলে এ পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ সম্ভব নয়। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত বিধিতে সংশোধন আনা হয়। দুই মাস আগে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শেষ করে পিএসসি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম পিএসসির আওতাভুক্ত। এ কারণে পর্যাপ্ত শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত শিক্ষকদের পদ শূন্য হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নন-ক্যাডার থেকে হাইস্কুলে নিয়োগের জন্য যে সংখ্যায় সুপারিশ আসছে তা দিয়ে সংকট কাটছে না। এ কারণে আলাদাভাবে ১ হাজার ৩৭৮ শিক্ষক নিয়োগের জন্য পিএসসিতে চিঠি দেওয়া হয়। তার ভিত্তিতে পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষা শেষ হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।’

দেড় হাজার শিক্ষক নিয়োগ পেলে মাধ্যমিকের শিক্ষক সংকট কেটে যাবে বলে আশা করেন সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।