ইয়াসমিন ইসলাম; শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড” আর শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। ভিত্তি কে নড়বড়ে করে উপরে যতই শক্ত করে ইট গাঁথা হোক না কেন তার ধ্বংস অবধারিত ঠিক তেমনি শিক্ষার ভিত প্রাথমিক শিক্ষাকে দুর্বল রেখে উচ্চতর শিক্ষা যতই শাখা-প্রশাখা বিস্তার করুক না কেন তা জাতিকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারবে না। সেই পুতুল খেলার বয়স থেকে একটা স্বপ্নই লালন করে বড় হয়েছি শিক্ষিকা হব। সহপাঠীরা যখন রান্নাবাটি খেলায় ব্যস্ত আমি তখন মায়ের শাড়ী পরে শিক্ষিকা সেজে পড়া পড়া খেলি, জীবনের এতো গুলো বছর যে ইচ্ছেটা যত্ন করে পুষে রেখেছি তা এক মুহূর্তে মিথ্যা হয়ে যাবে ভাবতেই ভয়ে শিউরে উঠি! নানা রকম রীট জটিলতার কারণে ২০১৮ সালে দীর্ঘ চার বছর পর যখন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ায় আমার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নটা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অক্লান্ত পরিশ্রম করতে শুরু করি নিজের স্বপ্নটাকে ছুঁতে পারব বলে। আমি আমার স্বপ্ন পূরণের এক ধাপ কাছে চলে আসি যখন ২০১৮ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় রেকর্ড সংখ্যক ২৪ লক্ষ পরীক্ষার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় আমরা ৫৫২৯৫ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হই যা ছিল মোট পরীক্ষার্থীর শতকরা ২.৩ ভাগ। কিন্তু চূড়ান্ত ভাবে সুপারিশ করা হয় মাত্র ১৮১৪৭ জন পরীক্ষার্থীকে আর নিয়োগ বঞ্চিত হই আমরা ৩৭ হাজার পরীক্ষার্থী। যেখানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব মো: ফসিউল্লাহ স্যার বলেছেন, ভাইভাতে কোনো পাস ফেল নেই। ভাইভাতে উপস্থিত হলেই ১৪/১৫ নম্বর পাওয়া যায়।

তাছাড়া বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রাথমিককে মৌখিক পরীক্ষায় ফেল বলতে কিছু নেই। যেহেতু ভাইভা পরীক্ষায় পাস ফেল বলতে কিছু নেই তাহলে কেন বাকি ৩৭ হাজার লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী পরীক্ষার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয় নি? আমরাও কি কোয়ালিটি সম্পন্ন নই? চূড়ান্ত নিয়োগের দাবিদার কি আমরা নই? তাছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ৮ নং এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, শূন্যপদ পূরনের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে কিন্তু চূড়ান্ত নিয়োগে সম্পূর্ণ শূন্যপদ পূরণ না করেই পদায়ন কার্যক্রম সম্পূর্ণ করা হয় যেটি ছিল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক । প্রাথমিকে চলমান চরম শিক্ষক সংকট ও হাজার হাজার শূন্যপদ খালি থাকার সত্ত্বেও কেন আমরা ৩৭ হাজার মেধাবী পরীক্ষার্থী নিয়োগ বঞ্চিত হব সেটি আমার বোধগম্য নয়। বিগত বছরগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে প্রাথমিকে পুল ও প্যানেলের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস অন্যান্য বারের তুলনায় এবারের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৭ হাজার পরীক্ষার্থী বেশি যোগ্য ও মেধাবী।

তাই মানবতার মা উন্নয়নের রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার আকুল আবেদন, বর্তমানে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে চলমান শিক্ষক সংকট ও করোনা পরবর্তী সময়ে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার ঘাটতি পূরণে আমাদেরকে প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ দান করে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিন। মা আমরা আপনারই সন্তান, এ দেশেরই সন্তান। আমরা বেকার থেকে দেশের বোঝা হতে চাই না।

আমরা দেশ ও দশের সেবা করতে চাই, কোমলমতি শিশুদের দায়িত্ব নিতে চাই এবং দেশের বিপর্যস্ত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালে ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। মা আপনি তারই সুযোগ্য কন্যা আমাদের ৩৭ হাজার প্যানেল প্রত্যাশী কে নিয়োগ দিয়ে তার কাজের পুনরাবৃত্তি করবেন এটাই আমাদের আশা।

  • লেখক; সহ-সভাপতি,বাগেরহাট জেলা , প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮ প্যানেল প্রত্যাশী কমিটি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।