নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা; করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই লকডাউন বলবৎ থাকবে। তবে ওষুধ, কাঁচামাল ও মুদি দোকান লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২০) বিকেলে শিবচর লকডাউনের ঘোষণা দেয় উপজেলা প্রশাসন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন শিবচরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান । বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে শিবচর উপজেলার ওষুধ, কাঁচামাল ও মুদি দোকান বাদে সব দোকানপাট ও গণপরিবহন বন্ধ থাকবে।
ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, যেহেতু শিবচর করোনার ঝুঁকিতে রয়েছে সেহেতু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান ও ফার্মেসি খোলা থাকবে। বিশেষ করে বিদেশফেরত ব্যক্তিদের নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে হবে। যদি কেউ হোম কোয়ারেন্টাইন না মানে তাহলে শিবচর নন্দকুমার ইনস্টিটিউশনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হবে।
এদিকে পুরো মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর জেলা লক ডাউন এর ঘোষণা দিতে পারে দুই একদিনের মধ্যেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। করোনা ভাইরাসের মহামাহারি আকার ধারণ করা ইতালির ফেরত প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি এই দুই জেলায়।
এর আগে করোনার কারণে প্রয়োজনে শিবচর ও মাদারীপুর লকডাউন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২০) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, শিবচর ও মাদারীপুর ভালনারেবল। এ জেলায়ই করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে বেশি মানুষ এসেছে। সেখানেই বেশি নজরদারি করা হচ্ছে। প্রয়োজনে লকডাউন করা হবে। তার এই বক্তব্যের পরই বিকেলে শিবচর লকডাউন করা হলো।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু এলাকা আছে যেখানে বিদেশ ফেরত অনেক মানুষজন কোয়ারেন্টাইন মানছেন না, কিছু এলাকায় অনেক বেশি বিদেশ ফেরত মানুষ অবস্থান করছেন। এসব এলাকাও প্রয়োজনে লকডাউন করা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রয়োজনে লকডাউন করার কথা ভাবছে সরকার।
এর আগে মাদারীপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, মাদারীপুরে ২১২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুজনকে ঢাকায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের নতুন ভবনে ১০০ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। সদর হাসপাতালের পুরাতন ভবনের দুটি কেবিনের চারটি বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি করে বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) দেয়া তথ্যমতে, করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশে নতুন করে আরও তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজন পুরুষ ও একজন নারী এবং তারা একই পরিবারের সদস্য। এ নিয়ে দেশে এখন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ জনে দাঁড়াল। গতকালই প্রথম বাংলাদেশে করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।
এদিকে চুয়াডাঙ্গায় ইতালিফেরত এক যুবককে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি গত ১২ মার্চ ইতালি থেকে দেশে এসেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে চুয়াডাঙ্গায় একজনসহ দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ জনে দাঁড়ালো। এরই মধ্যে বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন।
তিনি জানান, আক্রান্ত ওই যুবক গত ১২ মার্চ ইতালি থেকে দেশে ফেরেন। ১৪ মার্চ আসেন নিজ বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায়। গত ১৬ মার্চ ওই যুবককে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।
আমাদের বাণী ডট কম/১৯ মার্চ ২০২০/সিপি
