শেখ মামুন, রাজবাড়ী জেলা সংবাদদাতা;  জেলায় কলেজ পর্যায়ের একমাত্র কলেজ হিসেবে এমপিওভুক্তির চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে জেলার পাংশা উপজেলার গরিবের কলেজ খ্যাত কলিমহর মহাবিদ্যালয়।

আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২০) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে কলেজ পর্যায়ে  ৯২ টি কলেজের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়। এই ৯২ টি কলেজের মধ্যে ফলাফল, শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও শিক্ষার গুনগত মানের ভিত্তিতে জায়গা করে নিয়েছে কলিমহর মহাবিদ্যালয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকায় ২০০০ সালে একটি টিনশেড ঘর নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। দানবির ও শিক্ষানুরাগী প্রয়াত নুরুল ইসলাম মিয়া (খোকা মিয়া) এর হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানটি নানা ঘাত প্রতিঘাত শেষে  একাডেমিক স্বীকৃতি পায় ২০০৯ সালে।

এলাকার গরিব ও অর্থকষ্টে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার উপক্রম হওয়া  শিক্ষার্থীদের খুঁজে খুঁজে নিজস্ব হোস্টেলে কিংবা ছেলেদের বাইসাইকেল ও মেয়েদের জন্য পরিবহণ ব্যবস্থা করে কলেজটিতে ভর্তি করান প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক কর্মচারীরা। টানা ২০ বছর ধরে বিনা বেতনে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দিয়ে যাচ্ছেন কলেজটি। এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মিয়া আরজু’র প্রধান পৃষ্ঠপোষকতায় ও সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম বকুল মিয়ার একান্ত দেখভালে এবং শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রমে কলেজের ফলাফল ও শিক্ষার মানে জেলায় প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে কলেজটি। যার ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি আজ এমপিওভুক্তির চূড়ান্ত তালিকায় জেলার একমাত্র কলেজ হিসেবে জায়গা পেল।

পর পর তিন বছর গড়ে (২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭) ৮৩  শতাংশ পাশের হার ধরে রাখা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা আড়াই শতাধিক এবং শিক্ষক কর্মচারীর সংখ্যা  ২০ জন।

কলিমহর মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ টিংকু মোদক জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি যোগ্যতায় জেলার একমাত্র কলেজ হিসেবে এমপিওভুক্ত হলো। এখানে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই নিন্মবিত্ত পরিবারের। আমরা বিনা বেতনে ও উপবৃত্তি দিয়ে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী করে তুলি। আশা করি কলেজটি আগামী বছর থেকে শতভাগ ফলাফল এবং জেলার মধ্যে অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থান করে নেবে।

আমাদের বাণী ডট কম/২৯এপ্রিল ২০২০/পিপিএ  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।