জীবমাত্রই জীবিত থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা বা সংগ্রাম করে চলে। সবুজ-শ্যামল-সুন্দর-এ-মনোরম পৃথিবী ছেড়ে, কেউই স্ব-ইচ্ছায় অন্ধকারের দেশে চলে যেতে চায় না। তবুও যেতে হয়, জীবের জীবনের নির্দিষ্ট কোনো এক সময়ে। এটাই হলো প্রকৃতির নিয়ম। এ-নিয়ম ক্ষণ্ডানোর নয়।এ ক্ষণ্ডানোর ক্ষমতা প্রকৃতি কাউকে দেয়নি। জল-স্থল আকাশ-পাতাল মিলিয়ে সর্বমোট, ৮৭ লক্ষ জীব এবং জীব-উদ্ভিদ মিলিয়ে ১ লক্ষ কোটি প্রাণী পৃথিবীতে আছে। তবে নতুন-নতুন প্রাণীর যেমন সন্ধান পাচ্ছেন জীববিজ্ঞানীরা, তেমনি অনেক প্রাণীর বিলুপ্তির ঘটনাও দেখতে পাচ্ছেন। তবে সৃষ্টির স্রেষ্ট জীব যে আমরা মানুষই, এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই; এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। আর বর্তমান বিশ্বে মানুষের সংখ্যা ৭৭০ কোটি। এবং আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ তা গিয়ে দাঁড়াবে ৯৬০ কোটিতে। যা জীবের জন্য শুভ বার্তা বহণ করছে না। ছোট্ট ধরিত্রী আজ হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। কেননা, ‘মানবসম্পদ’ না হয়ে ‘মানব বোঝা’ হয়ে দাঁড়াচ্ছে!

পৃথিবীতে ছোট-বড় ভালো-মন্দর গুন বিচারে মানুষই হয়েছে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। কেননা, মানুষের মধ্যে আছে বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন ‘জ্ঞান-বিবেক’। এজন্য পৃথিবীতে মানুষই মুখ্য। অন্যান্য সবই গৌণ, যা মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এবং মানুষই একমাত্র সামাজিক জীব। এই সামাজিক বন্ধনটা অন্যান্য জীবের মধ্যে অনুপস্থিত। সামাজিক জীবের সমাজ গঠন করতে হয়, আর তা করতে গিয়েই যত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে মানব প্রজাতিকে। আহার ছাড়া যেমনি যেকোনো প্রাণী-উদ্ভিদ পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারে না। তেমনি এই বিপুল সংখ্যক মানবপ্রজাতির খাদ্যের যোগান দিতে গিয়ে, অন্যান্য বহু প্রাণী-উদ্ভিদ পৃথিবী থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং আগামীতে আরো বিলুপ্ত হবে। কেননা, পৃথিবীর আয়তনের তুলনায় লোক সংখ্যা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে।

পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে হলে খাদ্যের প্রয়োজন বলেই, মানুষ খাদ্য খেয়ে তা সঞ্চয় করাও শুরু করে দেয়। আর এ-সঞ্চয় করতে গিয়ে যদি কেউ কুক্ষিগত করে, তাহলে অশান্তি বৈ শান্তি কিছুই থাকে না। আর আমরা পৃথিবীবাসী সে অশান্তির দ্বারপ্রান্তে আজ পৌঁছে গেছি। প্রাণী-উদ্ভিদ নামান্তেই ছোট-বড় ও সবল-দুর্বল থাকে বা আছে। আর সবল চিরদিনই দুর্বলের উপর শাসন-শোষণ বা প্রভাব খাটিয়ে করে চলে। যেদিন থেকে মানুষের মধ্যে ‘সঞ্চয়’র জ্ঞান ঢুকে পড়ল, সেদিন থেকেই মানুষ তার সঞ্চয়ের ভীষণ কর্মযজ্ঞে নেমে পড়ল। আর স্বাভাবিকভাবেই সঞ্চয়ের এ যুদ্ধে সবলের সঙ্গে দুর্বলের জয়ী হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকে না। তবে হ্যাঁ, দুর্বল হেরে যেতে পারে; কিন্তু তার বেঁচে থাকার অধিকারটুকু তো থাকার কথা! যে অধিকার সবল আজ হরণ করে নিচ্ছে।
মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের মতো চিত্র ফুটে উঠেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিসংখ্যানে সুস্পষ্টভাবে। যা স্রেষ্ট জীব হিসেবে আঁতকে উঠার মতো ব্যাপার।

প্রতিবছর পৃথিবীতে ১৩০ কোটি টন খাদ্য অপচয় হয় এবং ধনকুবদের আবাসস্থল শুধু ইউরোপেই প্রতিবছর ২৯ মিলিয়ন টন শুধু দুগ্ধজাত খাদ্য দ্রব্যই অপচয় হয়। অন্যান্য খাদ্য যে হয় না, তা নয়। সকল খাদ্যই অপচয় হয় এবং অধিক হারে হয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা’র এক পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বব্যাপী খাবারের চাহিদা এখনো ৪শ কোটি টনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বিশ্বে জনসংখ্যার চাহিদার চেয়ে বেশি খাদ্য উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও, এখনো ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০০ কোটি। বিশ্বে অনাহারী মানুষের সংখ্যা অন্তত ৮৭ কোটি মানুষ যেখানে দিনে দু’বেলা পেট পুরে খেতে পারে না এবং দৈনিক সতেরো কোটি লোক সম্পূর্ণ ক্ষুর্ধাত অবস্থায় দিন কাটায়। খাদ্যাভাবে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে প্রায় ১৭ হাজার শিশু। বছরে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৬২ লাখ ৫০ হাজার। বিশ্বে প্রতি বছর যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদিত হয় তার এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে যায়, যা ১.৩ বিলিয়ন টন খাদ্য।
যার বাজার মূল্য সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলার।

খাদ্য নষ্ট হওয়ার ফলে খাদ্য থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক যৌথ গবেষনায় উঠে এসেছে যে,”বাংলাদেশে প্রতিবছর মোট উৎপাদিত খাদ্যের মধ্যে প্রায় ৩০ ভাগই নষ্ট হয়ে যায় এবং অপচয়কৃত এ খাদ্যের আর্থিক মূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।”

আর এই সময় আমাদের হৃদয় বিদারিত এমন কিছু দুঃসংবাদ শুনতে হয়!
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার জোরবাড়িয়া গ্রামে ৪ দিন বয়সের পুত্র সন্তানকে ২০ হাজার টাকা এবং একটি ঘর নির্মাণের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় হতদরিদ্র পিতা দুলাল মিয়া। শেরপুরে কণিকা নামের ১২ বছরের এক কিশোরী এবং সিরাজগঞ্জে সাব্বির নামের পঞ্চম শ্রণীর এক স্কুল ছাত্র ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করলেও, জাতির বিবেকে নাড়া দেয় না!
বামপন্থী রাজনীতিবিদের একটি উপাধি আছে, ‘কমরেড’, অর্থ বন্ধু। এ-উপাধি সবাই পায় না। যাঁরা প্রকৃত অর্থে জনগণের বন্ধু তাঁরাই পায়। তো

আমাদের দেশে সারাবছর তো দেখিই, বিশেষ করে নির্বাচনের সময় আরো বেশি; দেখি প্রচারে বলতে, “আমাদের নেতা সৎ, যোগ্য, নির্ভীক, ন্যায়নীতি-নিষ্ঠাবান, গরীব দুঃখী মেহনতী মানুষের বন্ধু, যিনি সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ান তিনি আমাদের অমুক ভাই”। তো গরিবের এত কৃতিত্বের বন্ধু থাকতেও তার ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হলো না কেন, এটা আমাদের বোধগম্য নয়! বোধগম্য নয় যে, সে অনাহারী থেকে মুক্ত হয়ে অন্ন পেলো না কেন! কেন সে ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করল!

হাড় কাঁপানো কনকনে শীতে জোটে না একটা শীত বস্ত্র তাদের গায়ে। ঠাডা পড়া রোদ্রে ভ্যাপসা গরমে কোন উদ্যানে ঘাসের উপর তাদের শেষ আশ্রয় স্থল। যদি নামে বৃষ্টি মুষল ধারায় অঝরে ঝরে যায় শিশুর জীর্ণ শরীরের উপর দিয়ে। এভাবেই মানুষ কর্তৃক ভাগ্য নির্ধারিত, এভাবেই মানবেতর জীবনযাপন তাদের।
এটা তো নির্দয়-নিষ্ঠুর-পাষাণী শাসক অসভ্য বর্বর সে জারের আমল নয়। আমরা না আধুনিক সভ্য সমাজের শ্রেষ্ঠ জীব, সভ্যতা না আমাদেরই সৃষ্টি! এটা তো পলাশী যুদ্ধের যুগ নয়, এটা চীনের সে মহাদুর্ভিক্ষের যুগ নয়, যে দুর্ভিক্ষে (১৯৫৯-১৯৬১) তিন থেকে প্রায় সারে চার কোটি মানুষ মারা যায়! এটা কোনো মহামারী বসন্ত-কলেরা রোগের যুগও নয়। যে যুগে অকালে অকারণে মৃত্যু হওয়াটাই স্বাভাবিক ঘটনা। মানুষ তো দূরের কথা, আজকের বিশ্বে যদি একটি পাখির মৃত্যু ঘটে, তবুও তার হিসাব জানতে হয় এবং সেটা আঁতকে উঠার ব্যাপার। এ-জন্য যে, জীবের জন্মের সঙ্গে মৃত্যু অনিবার্য হলেও অস্বাভাবিক অনাকাঙ্খিত মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারি না। কেননা, আমরা আমাদের তৈরি সভ্যতায় বসবাস করি, আধুনিক বিজ্ঞানের তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বে।
এটা আমাদের দুর্ভাগ্য, এটা সভ্যতার সংকট।

এ-সংকট মনুষ্যসৃষ্ট। যে কারণে অর্ধাহারে-অনাহারে অন্যান্য প্রাণীসহ মানুষকেও থাকতে হচ্ছে। যার শেষ পরিণতি ঘটছে অস্বাভাবিক হারে মৃত্যু। এ-মৃত্যু মানুষের হলেও সবলের নয়, এ-মৃত্যু দুর্বলের।

অন্যান্য জীবের তুলনায় মানুষ ‘জ্ঞান-বিবেকে’ শ্রেষ্ঠ। সে জ্ঞান-বিবেক আজ মানুষ বিসর্জন দিয়ে ৩৮০ কোটি মানুষের সম্পত্তির সমান ২৬ জন ধনী সম্পদ কুক্ষিগত করেছে। যার ফলে শত কোটি মানুষের আজ অনাহারে-অর্ধাহারে পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নিতে হচ্ছে। কিন্তু কেন, আমরা না মানুষ। আমরা না শ্রেষ্ঠ জীব। আমাদের না বিচার-বুদ্ধি-জ্ঞান সম্পন্ন বিবেক আছে? আমরা না হাসি, আমরা না অন্যের দুঃখে সহমর্মিতা দেখিয়ে কান্নাকাটিও করি! কোথায় গেল আমাদের সে আবেগ, সে সহমর্মিতা বোধ?

আমরা আজ গরিব-ভিখারি রাষ্ট্র থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি। কিন্তু সেটা আমরা কিসে উন্নত হচ্ছি? আমরা টাকা-পয়সা-ধন-দৌলত বৈভব- অভিযাত্য ঐশ্বর্য্যে উন্নত হচ্ছি। কিন্তু আমরা ভুলে যাচ্ছি যে, আমরা মানুষ যে শ্রেষ্ঠত্বের গুনাগুন নিয়ে বড়াই করি, সে গুনাগুন কি আমরা রক্ষা করতে পারছি, নাকি বিসর্জন দিচ্ছি!

একটি উদাহরণ দিই। নববধূ বিয়ে হয়ে সবেমাত্র তার শ্বশুরবাড়িতে ঢুকছে মাথায় ঘোমটা দিয়ে। তো স্বভাবিকভাবেই লজ্জায় তার ঘোমটা বা শাড়ির আঁচল দিয়ে তার মুখটা এমন করে ঢাকছে যে, আঁচল সামনের দিকে টানতে-টানতে মাটিতে পায়ের সঙ্গে ঠেকিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু তার লক্ষ্য নেই যে, সে যে এত কাপড় সমনের দিকে টানছে, তার পিছনের কাপড় ঠিক আছে কি না! কাজেই আজ আমাদের মানুষের দশাও হয়েছে নববধূর ন্যয়। ধন-দৌলত মান-সম্মান ঐশ্বর্য-বৈভব-কৌলীন্য-অভিজাত্যে বড় হতে গিয়ে যে, আমরা ‘মানুষ’ হিসেবে ছোট হয়ে যাচ্ছি। আমরা যে মনুষ্যত্বকে বিসর্জন দিয়ে চলেছি, এদিকে আমাদের কোনো লক্ষ্যই নেই। কিন্তু না, এমন ভগ্নাদশা ঘুনে ধরা মানবসমাজ আমরা আশা করি না।

আমাদের সরকার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বা তাঁর আমলারা আমৃত্যু বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়িতে জীবনযাপন করতে পারেন এমন বন্দোবস্ত করে দেন। একই ছাদের তলে সেখানে তাঁদেরই নাকের ডগার উপর দিয়ে ঘোরাফেরা করে পথশিশু। অর্ধাহারে-অনাহারে এ সব বাস্তহীনদের মৃত্যুবরণও করতে হয়। তখন কি ঊর্ধ্বতন মহলের একটু হৃদয়ে নাড়া দেয় না? পথশিশুরা কি মানুষ নয়? আমরা চাই, সরকারি উদ্যোগে একটি বড় প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীনদের জন্য ভূমি বরাদ্দ দিতে হবে। সারাদেশে যেন আর একটি বস্তিও আমরা না দেখি। বিবেকবান মানুষ হিসেবে এগুলো দেখতে আমাদের হৃদয়ে নাড়া দেয়। কেননা, তারাও তো আমাদের মতোই মানুষ। আমরা লক্ষ্য করেছি, মাঝে-মাঝে বস্তিতে আগুন ধরে বস্তসহ বস্তিবাসী অগ্নির লেলিহায় পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তখন সে ফাঁকা জমি রাষ্ট্রীয় কোনো কাজে ব্যবহৃত হয়।

তাই আমরা চাই, মাঝে-মাঝে সে অগ্নিকাণ্ড না ঘটিয়ে একযোগে সারাদেশের বস্তিতে আগুন ধরিয়ে বস্তিবাসীদেরকে বাসস্থানের স্থায়ী বন্দবস্থ করে দেয়া হোক। আমরা বস্তি দেখতে চাই না। আমরা কোনো পথশিশু আর দেখতে চাই না। আমরা চাই না ক্ষুধার জ্বালা নিবৃত করতে না পেরে কোনো মানুষ আত্মহত্যা করুক। চাই না কোনো মানুষ ধুঁকে ধুঁকে অনাহারে মারা যাক। আমরা বিভিন্ন স্থানে ‘ভিক্ষুকমুক্ত জেলা-উপজেলা’ সাইনবোর্ড দেখতে পাই। কার্যত গ্রামে কিংবা শহরে ভিক্ষুকের কোনো অভাব নেই। কাজেই আমরা ‘সাইনবোর্ড কেন্দ্রিক’ ভিক্ষকমুক্ত না দেখে, ‘ভিখারি কেন্দ্রিক’ ভিক্ষকমুক্ত রাষ্ট্র দেখতে চাই।

আমরা জানি, সরকার বা সরকারি দল অথবা ধনীরা অপ্রয়োজনীয় বা তুচ্ছ কোনো কাজে অগাধ টাকা-পয়সা ব্যয় করে থাকেন। তো সরকারের যদি সদিচ্ছা থাকে, যদি এখানে আন্তরিক হন, তাহলে সরকার, সরকারী দলসহ ধনীদের প্রতি একটি আহ্বান জানাতে পারে। সেখানে পথশিশু, বাস্তহীন, ক্ষুধার্ত, দরিদ্র শ্রেণীগোষ্ঠীর উন্নয়নকল্পে একটি ফান্ড সংগ্রহ করতে। সমতাবান্ধব সোনার বাংলা গড়তে অনেকেই সারা দিবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। বিশেষ করে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যদি উদ্যোগটা গ্রহণ করেন। কেননা, তাঁর কৃপা বা তাঁর সরকারের সহযোগিতায় অনেকেই ধনকুব হয়েছেন।

আমরা হয়ত জানি না, জানলেও তা মানি না। আমাদের অজান্তেই হয়তো আমরা অনেক খাদ্য এবং অনেক পোশাক অপচয় করে চলেছি, যেগুলো অনাহারী বা অসহায় মানুষদেরকে দিলে তারা অন্তত এক মুঠো খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারে। আমাদের রাষ্ট্রীয়-পারিবারিক যেকোনো অনুষ্ঠানে ভুরিভোজ খাওয়ার বিশাল এক কর্মযজ্ঞ চলে। সেখানে যদি গরিব-মিসকিন অসহায় পথশিশুরা এগিয়ে এসে একটু খাবার চায়। তারা তা পায় বলে মনে হয় না। অথচ অনুষ্ঠান শেষে দেখা যাবে, এক হাজার লোকের খাওয়ার আয়োজন করলে হয়তো ৫০ জনের খাবার নষ্ট করে ডাস্টবিনে ফেলে দেবে। তখন পথশিশুরা ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে খাবে, অথচ ভালো থাকতে জোটেনি এক মুঠো ভাত তাদের ক্ষুধার জ্বালা নিবৃত করতে।

কাজেই আমরা চাই শুধু ভাতই নয়। আমাদের যেকোনো জিনিসই যেন আমরা অপচয় না করি। আমরা যেন নষ্ট করে ফেলে না দিই। যে টা আমাদের কাছে অপ্রয়োজনীয় তুচ্ছ, সেটা অন্য জনের কাছে অতি আদরের বা লোভনীয় কিছু হতে পারে। কাজেই তাকে সেটা উপহার দেয়াই শ্রেয়। প্রকৃতির সৃষ্টিকে ভালোবাসার পাশাপাশি আমরা আমাদের সজাত তথা মানুষকেও যেন ভালোবাসতে পারি। ভালোবাসতে শিখি। মানুষের প্রতি মানুষের যে সহমর্মিতা বোধ তা যেন আমরা ফিরিয়ে আনতে পারি। অবক্ষয়ে জর্জড়িত মূল্যবোধহীন সমাজ যেন আমাদের আর না দেখতে হয়। আমরা যেন অবক্ষয়ের চরম পর্যায়ে থেকে নেমে আসতে পারি। লালনের কথায়, ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি, মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপা রে তুই মূল হারাবি’। কাজেই আমরা যেন মূল না হারাই এবং পুঁজিবাদের খপ্পরে পড়ে যেন মনুষ্যত্বের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে না ফেলি।

লেখক: লাইব্রেরীয়ান, কমিউনিটি লাইব্রেরী

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।