জিকরুল হক, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা; জেলার সৈয়দপুরে সরকারি সম্পদ আত্মসাত মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষের (ভারপ্রাপ্ত) বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। অভিযুক্ত উপজেলা চেয়ারম্যানের নাম মোখছেদুল মোমিন ও অধ্যক্ষের নাম রাজিব উদ্দিন। নীলফামারীর পুলিশ সুপার বরাবরে এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল। গত মাসের ২২ ফেব্রুয়ারি অত্যন্ত গোপনে এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

বিলম্বে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন ২১০০ বর্গফুট আয়তনের একটি শতবর্ষী ভবন অভিযুক্ত ওই দুই ব্যক্তি কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ভেঙ্গে ফেলে। এই ভবনটি সৈয়দপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের অফিস হিসাবে ব্যবহার করা হতো। পরে ভেঙ্গে ফেলা ভবনের ইট, লোহার গার্ডার, দরজা, জানালাও বিক্রি করে দেয়। এ বিষয়টি জানতে পেরে বাংলাদেশ রেলওয়ে সৈয়দপুরের উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পূর্ত) তহিদুল ইসলাম সৈয়দপুর থানায় ২৩ জুন মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিবাদী করা হয় উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোখছেদুল মোমিন ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রাজীব উদ্দিনকে।

মামলায় সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ থাকায় সৈয়দপুর থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাজাহান পাশা মামলার মূল অভিযোগের কপি দুর্নীতি দমন কমিশনের রংপুর সম্বন্বিত অঞ্চলের উপ-পরিচালক বরাবরে প্রেরণ করেন। এরই প্রেক্ষিতে দুদক অভিযোগের তদন্ত করতে নীলফামারী পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দেন। এ নির্দেশনা মোতাবেক পুলিশ সুপারের পক্ষে রেলওয়ের সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেন সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল।

দীর্ঘ প্রায় আট মাস তদন্ত শেষে ওই দুই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে গত ২২ ফেব্রুয়ারি নীলফামারী পুলিশ সুপারের দপ্তরে অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

জানতে চাইলে, তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

আমাদের বাণী ডট কম/০৯ মার্চ ২০২০/সিপি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।