জিকরুল হক, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা: নীলফামারীর সৈয়দপুরে কোন প্রকার নিয়মনীতি না মেনে স্কুলের পাশে খোলা ডাস্টবিন নির্মাণ করা হয়েছে। এটি করা হয়েছে শহরের মুন্সিপাড়ার রামকৃষ্ণ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে। ফলে ওই স্কুলে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। আলোচনার ঝড় বইছে বিশিষ্টজনদের মাঝে। বিশিষ্টজনরা বলছেন খোলা ডাস্টবিন থেকে সহজেই রোগের জীবাণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হন শিশু ও বৃদ্ধরা। পথচারীরা পথ চলতে পারেন না। বিশেষ করে ডাস্টবিনের ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে গর্ভবতী মেয়েরা চরম বিড়ম্বনার শিকার হন। অনেক মহিলা দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে বমি করে ফেলে। এতে করে তলপেটে চাপ পড়ায় সন্তানের ভ্রণ অকালেই বিনষ্ট হওয়ার আশংকা দেখা যায়।
ওইসব ব্যক্তিদের মতে, শহরের ঘিঞ্জি ও ঘনবসতি এলাকা মুন্সিপাড়া। এলাকার বসবাসকারীদের বেশির ভাগ মানুষ নি¤œ আয়ের। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় সেসব মানুষ রোগের শিকার হলে নিরুপায় হয়ে পড়ে। ধার দেনা বা অন্যের কাছে হাত পেতে চিকিৎসার খরচ ব্যয় করতে হয় তাদের। এতে করে অল্প আয়ের এসব মানুষরা দেনার দায়ে সংসার ছাড়া হয়ে যান। এমন অব¯’ায় পরিবারের সদস্যরা ছিন্নমূল হয়ে পড়ে। এজন্য বর্তমান সরকার ও পৌর কর্তৃপক্ষ খোলা ডাস্টবিনের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। নাগরিকদের গৃহ¯’ালি আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে বাড়ি বাড়ি সরবরাহ করা হয়েছে বক্স ডাস্টবিন। পৌরসভার পরি”ছন্ন কর্মীরা নির্দিষ্ট দিনে গিয়ে সেসব ডাস্টবিনের ময়লা নিয়ে যায়। পৌর কর্তৃপক্ষ এমন উদ্যোগ গ্রহণ করায় পানি ও বাতাসবাহিত রোগীর সংখ্যা শহর থেকে বেশ কমতে শুরু করেছে।
কথা হয় রামকৃষ্ণ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক রমজান আলী, দেলোয়ার হোসেন ও জোহরা খাতুনের সঙ্গে। তারা ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন ধনি ব্যক্তির ছেলে মেয়েরাতো ওই স্কুলে পড়ে না। সে কারণে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি ও যুবলীগ নেতা দিলনেওয়াজ খান স্কুলের পাশে খোলা ডাস্টবিন তৈরী করেছে। এর ফলে খুব সহজেই ডাস্টবিনের জীবাণুতে আমাদের সন্তানরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে। সন্তানের চিকিৎসা করাতে না পারলে দুনিয়া ছাড়া হবে অকালে। অনেক মানুষ ডাস্টবিনের দুর্গন্ধের কারণে ওই স্কুলে ছেলে মেয়ে পড়াবে না। এমন পরি¯ি’তি সৃষ্টি হলে সাধারণ গরীব মানুষের সন্তানরা পারবে না লেখাপড়া শিখতে। এমন ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই দিলনেওয়াজ খান স্কুলের পাশে ডাস্টবিন বানিয়েছেন। তারা দ্রæত ওই ডাস্টবিন সরানোর দাবি জানান। অন্যথায় সমস্ত গরীব মানুষ এক হয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবে বলে তারা হুশিয়ারী দিয়েছে।
এলাকার বিশিষ্টজন ও ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আকতার হোসেন ফেকু জানান, পৌর এলাকায় যে কোন ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমিত আছে কিনা সন্দেহ রয়েছে। তার মতে খোলা ডাস্টবিন এই আধুনিক যুগে বিধিসম্মত নয়। তাছাড়াও স্কুল সংলগ্ন ও রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা ডাস্টবিন থেকে ময়লা আবর্জনার জীবাণু খুব সহসাই নিঃশ্বাসের সঙ্গে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। তার মতে এই ডাস্টবিন নির্মাণের ফলে এলাকাবাসীসহ স্কুলের কোমলমতি গরীব মানুষের সন্তানরাই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
খোলা ডাস্টবিন নির্মাণে অনুমতি নেয়া হয়েছে কিনা জানতে মুঠোফেনে কথা হয় সৈয়দপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র জিয়াউল হক জিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন খোলা ডাস্টবিন বন্ধে পৌর কর্তৃপক্ষ নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার কারণ হলো ওই ধরনের ডাস্টবিন হতে দ্রæত রোগের জীবাণু ছড়ায়। এজন্য বাসায় বাসায় বক্স ডাস্টবিন দেয়া হয়েছে। আর ওই ডাস্টবিন নির্মাণে কোন অনুমতি নেই পৌর কর্তৃপক্ষের।
