নিজস্ব সংবাদদাতা, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর ও গাজীপুরঃ চট্টগ্রামে আইসোলেশন থাকা মুকিযোদ্ধা ও যুবক এবং ফরিদপুরে আইসোলেশনস্নে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে এছারা করোনা উপসর্গ নিয়ে সিরাজগঞ্জে এক পোশাক শ্রমিক ও গাজীপূরে এক যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা; চট্টগ্রামে শ্বাসকষ্টসহ নিউমোনিয়ার কিছু উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক মুক্তিযোদ্ধাসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে, নভেল করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য যাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
আজ সোমবার (০৬ এপ্রিল ২০২০) বিকালে (৬ এপ্রিল) চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের চিকিৎসার নির্ধারিত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আলিম উল্লাহ (৭১) এবং ২৪ বছর বয়সী এক তরুণ আগের রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান বলে চিকিৎসকরা জানান।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রোববার রাতে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন ওই মুক্তিযোদ্ধা। সোমবার বেলা ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
আর চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বাসিন্দা ওই তরুণ শ্বাসকষ্ট নিয়ে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন বলে স্বজনরা গণমাধ্যমকে জানান। হাসপাতালের উপ-পরিচালক আফতাবুল ইসলাম মিয়া বলেন, ওই তরুণের নিউমোনিয়া নিয়ে রোববার ভর্তি হন। পরে রাতের দিকে তার মৃত্যু হয়। নভেল করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার জন্য মৃত দুজনের নমুনা সংগ্রহ করে ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডির ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এদিকে করোনার উপসর্গ নিয়ে চমেকে মৃত যুবকের বাড়ি লকডাউন করেছে আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এক রোগীকে চমেক হাসপাতালে পাঠনো হয়েছিল। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওই যুবকের বারখাইন ইউনিয়নের শিলাইগড়ে বাড়িসহ কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। চমেক হাসপাতাল থেকে তার নমুনা পরীক্ষার জন্য বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়েছে, রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ফরিদপুর সংবাদদাতা; জ্বর, কিডনি সমস্যা ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকা এক বৃদ্ধ গেছেন।
আজ সোমবার (০৬ এপ্রিল ২০২০) সকালে তার মৃত্যু হয়। মৃত আবু শেখ (৭০) ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার চরমুরাদিয়া গ্রামে মৃত হাতেম শেখের ছেলে। এর আগে গত ৪ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে পড়লে আবু শেখকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ফমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, ওই ব্রক্তি কিডনি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। রোববার বিকালে তার শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি।
সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা; করোনা উপসর্গ নিয়ে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় এক পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শ্রমিকের বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে।
আজ সোমবার (০৬ এপ্রিল ২০২০) দুপুর ২ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ওই পোশাক শ্রমিকের বাড়ি উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের সরাপপুর এলাকায়।
স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার (১ এপ্রিল) হাঁচি-কাশি নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। এরপর তার জ্বর ও প্রচণ্ড গলা ব্যথা শুরু হয়। একই সাথে পাতলা পায়খানাও হতে থাকে। অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে সোমবার বেলা ১২ টার দিকে তাকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমলরুল কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সেখানে করোনা আতঙ্কে তাকে চিকিৎসা না দিয়ে বগুড়াস্থ শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। বগুড়ায় যাওয়ার পথে বেলা ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জামাল মিয়া শোভন বলেন, মৃত পোশাক শ্রমিকের বাড়িতে মেডিক্যাল টিম পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
গাজীপুর সংবাদদাতা; গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও পূর্বপাড়ায় গ্রামে ‘শ্বাসকষ্টে’ আক্রান্ত হয়ে ৩৫ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
আজ সোমবার (০৬ এপ্রিল ২০২০) সকাল ৯টার দিকে ওই নারীর শ্বাস কষ্ঠ বেড়ে গেলে পরে বাড়িতে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে তার জ্বর বা সর্দি–কাশি ছিল না বলে স্বজনরা জানান। এ নিয়ে এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে করোনায় ওই নারী মৃত্যু হয়েছে।
তবে এ ব্যাপারে সত্যতা নিশ্চিত করে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুস সালাম বলেন, ওই নারীর জ্বর বা সর্দি–কাশি ছিল না। শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে কয়েক বছর ধরে। তিনি কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাড়া ও বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিয়েছেন। কয়েক বছর আগে থেকেই ওই নারীর শ্বাসকষ্ট ছিল।
তিনি বলেন, করোনাভাইর ওই নারী আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। তাই নিহত নারীর দাফন সাধারণভাবেই সম্পন্ন হবে। তবে ওই নারীর স্বামীসহ পরিবারের অন্যদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, নমুনা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআর এ পাঠানো হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। তবে ওই বাড়ি বা বাড়ির আশপাশের বাড়িগুলো লকডাউন করা হয়নি। করোনা আতংকে ওই বাড়ি লোক যাওয়া আসা বন্ধ হয়ে যায়।
আজ সোমবার (০৬ এপ্রিল ২০২০) দুপুর ১২ টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে করোনা বিষয়ে আয়োজিত জরুরি সভায় এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। করোনা প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কমিটির প্রধান হলেও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয় ছাড়া অন্য কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয় না বলেও জানান তিনি।
আমাদের বাণী ডট কম/০৬ এপ্রিল ২০২০/এভিপি
