জিকরুল হক, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা;  করোনাভাইরাসের ছোবলে দুইবারের বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান সৈয়দপুরের মেসার্স ফাতেমা এন্টারপ্রাইজের খামারে মাশরুম উৎপাদনে ধস নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহ¯্রাধিক শ্রমিক কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে ৭০ লাখ টাকা হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

মাশরুম জগতের পাইওনিয়ার মেসার্স ফাতেমা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আজিজুল হক বলেন চলতি বছর ১০ হাজার বেকার যুবক ও যুব মহিলার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছিল। নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্যাম্পেইন করা হয়। মাশরুমের উৎপাদন বাড়াতে চাষী প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস আতংক সব পরিকল্পনায় আঘাত হেনেছে। তার খামারে উৎপাদিত মাশরুমের চালান যেতো উত্তরা ইপিজেড, পার্বতীপুরের কয়লাখনি, রংপুর, দিনাজপুর, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সাভারের বাজারে। কিন্তু করোনাভাইরাস আঘাত হানতে পারে এমন আশংকায় মাশরুম খামার লকডাউন করা হয়েছে। শতকরা ৯০ ভাগ শ্রমিক কর্মচারী নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে। অল্প ক’জন শ্রমিক কর্মচারী খামারে কাজ করছে। এতে করে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৭০ ভাগ উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে যা উৎপাদন হচ্ছে তাও বাজারজাত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এ সময়ের আয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু এই অবস্থা আরো দুই তিন মাস চললে সম্ভাবনাময়ী মাশরুমের এ খাতটিকে টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়বে। সবমিলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে কমপক্ষে ৭০ লাখ টাকা। আজিজুল হক আরো জানান, তার খামারে উৎপাদিত ওষুধি গুণ সম্পন্ন মাশরুম প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করা হয়। তাছাড়া নিয়মিত মাশরুম খেলে মানুষের সকল ধরণের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, গ্যাস্টিক, শ্বাসকষ্ট, ক্যান্সার, এলার্জি, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, হেপাটাইটিস বি, অন্তে জ্বালাপোড়া, পাইলস, একজিমা, নিউরো সার্জিক্যাল, কোষ্টকাঠিন্যসহ অনেক জটিল রোগ নিরাময়ে কাজ করে।

তার মতে, ওষুধি গ্যানো মাশরুমের তৈরী গ্যানো ফেয়ারনেস, গ্যানো মাইসেনিয়াম, গ্যানো পেইন, গ্যানো একজিমা ও ফেসিয়াল ফেসপ্যাক নিয়মিত ব্যবহার করা হলে রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ, রক্ত সঞ্চালন শক্তিশালী, দেহের বিপাক ক্রিয়া বৃদ্ধি, যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি, বাত ব্যথা, কোমর ব্যথা, হাটু ব্যথা, খোস পাঁচড়া, পাইলস, একজিমা এবং মেয়েদের মুখের কালোদাগ, ব্রণ, মেছতা, বলিরেখা, চর্মরোগ নিরাময় করা ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

অথচ পৃথিবীর চলমান এ দুর্যোগে পড়ে সম্ভাবনাময়ী এ শিল্পটির অগ্রযাত্রায় প্রচন্ডভাবে হোঁচট খাচ্ছে। এজন্য তিনি দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মত মাশরুম শিল্পেও প্রণোদনা দেয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।

আমাদের বাণী ডট কম/০৬ এপ্রিল ২০২০/এভিপি 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।