কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে যখন মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসন হিমশিম খাচ্ছে তখন দেশের মৎস্য সম্পদকে ধ্বংস করতে নদীতে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘চায়না দোয়ারী’ নামের বিশেষ এক ধরনের ফাঁদ।
যে ফাঁদে নির্বিচারে মারা পড়ছে পোনাসহ সব ধরনের মাছ। এ ফাঁদ ব্যবহার বন্ধে কোনো আইন না থাকায় মৎস্য বিভাগও নিতে পারছে না কোনো কার্যকর ব্যবস্থা। সরেজমিন গোয়ালন্দের পদ্মা নদীতে গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য ডিঙ্গি নৌকা নদীর তীরের দিকে নোঙর করে আছে। দেখে বোঝার উপায় নেই, কি কারণে নৌকাগুলো অলস পড়ে আছে। একটু খোঁজ নিতেই জানা গেল, এসব নৌকা মাছের বংশ ধ্বংসকারী ‘চায়না দোয়ারী’ নামের এক ধরনের ফাঁদ ফেলে বসে আছে।
বিশেষ এই ফাঁদ এ এলাকায় এবারই প্রথম নদীতে ব্যবহার হচ্ছে। মৎস্য বিভাগ বা প্রশাসনের বেশির ভাগ কর্তাব্যক্তিই এটা সম্পর্কে জানেন না। কমপক্ষে ৮০ ফুট লম্বা একেকটি ফাঁদ। এটি নদীর মাঝামাঝি পেতে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর পর তুলে আটকা পড়া বিভিন্ন প্রজাতির পোনাসহ অন্যান্য মাছ নৌকায় তুলে পুনরায় স্থাপন করে মৎস্য শিকারিরা।
‘চায়না দোয়ারী’ দিয়ে মাছ শিকারি পাবনা জেলার আমিনপুর এলাকার জেলে আ. রহিম শেখ ও রিপন শেখ জানান, তারা এই বর্ষায়ই এ ফাঁদ দিয়ে মাছ শিকার করছেন। একেকটি চায়না দোয়ারীর দাম পড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। সহজে মাছ ধরা পড়ে বলে এতে আয় বেশি, অন্যদিকে পরিশ্রমও কম। জানা যায়, আষাঢ় মাস থেকে আশ্বিণ পর্যন্ত এই চার মাস নদীতে প্রচুর মাছ ধরা পড়ে। এছাড়া বন্যায় বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় নদী-নালা, বিল-ঝিল, খানা-খন্দরে প্রচুর সংখ্যক মাছ ধরা পড়ে।
কয়েক বছর আগেও ভরা মৌসুমেও তেমন একটা মাছ ধরা পড়ত না। কারেন্ট জালসহ অন্য উপায়ে নির্বিচারে মাছ শিকারের ফলেই এমনটা হয়েছিল। তবে গত কয়েক বছরে মৎস্য বিভাগের তৎপরতায় সে পরিস্থিতি থেকে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে নদী ও খাল নালায় বিভিন্ন ধরনের মাছের বিচরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে থেমে নেই নির্বিচারে মাছ শিকারের পদ্ধতি। নতুন নতুন পদ্ধতি বের করে দেশীয় মাছের বংশ ধ্বংসের চেষ্টায় লিপ্ত এক শ্রেণির জেলে। আর সেই পদ্ধতির সর্বশেষ সংযোজন ‘চায়না দোয়ারী’।
গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা রেজাউল শরীফ বলেন, ‘এর আগে কোনোদিন এ ধরনের ফাঁদ দেখিনি। কারেন্ট জালের মতো চায়না দোয়ারীর ব্যবহার বন্ধে আইন করা প্রয়োজন।’ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নদীতে এ ধরনের ফাঁদ ব্যবহার বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি জানান। সৌজন্য দৈনিক যুগান্তর
