Shadow

বান্দরবানে নারী জাগরণে একজন ফাতেমা পারুল

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব সংবাদদাতা লামা (বান্দরবান) ; নারী পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বান্দরবানে লামা উপজেলার নারী নেত্রী ফাতেমা পারুল।

অসচ্ছল, স্বামীপরিত্যক্তা, বিধবা,দরিদ্র নারীদের কর্মসংস্হান সৃষ্টির লক্ষ্য গড়ে তুলেছেন নব জাগরণ মহিলা উন্নয়ন সমিতি। বর্তমানে প্রায় ৭ শতাধিক নারী এই সমিতিভুক্ত হয়ে নানান প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে সাবলম্বী হয়ে সমাজে প্রতিষ্টা পেয়েছেন।সমিতির পক্ষ থেকে কয়েক ধাপে বিতরণ করা হয়েছে ৬ শতাধীক সেলাই মেশিন এছাড়া ও বিভিন্ন ক্যাটাগড়িতে প্রশিক্ষিত করে তোলা হয়েছে অসংখ্য নারীদের।

এছাড়াও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, যৌতুক বিরোধীতায় সোচ্চার, নির্যাতিত নারীদের পাশে দাড়াঁনো সহ নারী উন্নয়নে সামাজিক ভাবে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছেন ফাতেমা পারুল।

২০০১ সালে লামা পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশগ্রহন করে ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ড থেকে মহিলা কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন ফাতেমা পারুল।পরে মহিলা আওয়ামীলীগ পৌর শাখার সভাপতি হিসেবে রাজনীতি তে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।পরবর্তী তে লামা উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কাউন্সিল এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান।সব শেষ ২০১৫ সালে তিনি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য পদ লাভ করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান ফাতেমা পারুল ২০১৯ সালে বান্দরবান জেলার ইতিহাসে সব চেয়ে ভয়াবহ বন্যায় লামা উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়নে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ত্রাণ হাতে ছুটেঁ গিয়েছেন মানুষের বাড়িতে বাড়িতে।সকল দূর্গমতা কে পাশ কাটিয়ে পাহাড় ধ্বসে নিহত ব্যাক্তির পরিবার কে বুকে আগলে নিয়ে সব সময় তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।দলীয় যেকোনো কার্যক্রমে রাজপথে সব সময় সরব উপস্হিতি সহ মূল দল আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে সম্মনয় রেখে কাধেঁ কাধঁ মিলিয়ে তার সমান তালে কাজ করে যাওয়ায় ইতিমধ্যে ই পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি’র কাছ থেকে পেয়েছেন ভূয়সী প্রশংসা।

ফাতেমা পারুল তার সামগ্রিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে এই প্রতিবেদক কে জানান,নারী জাগরণ মহিলা উন্নয়ন সমিতির যাত্রা শুরু হয়েছিলো মাত্র ১৫ জন অসহায়, অসচ্ছল মহিলা নিয়ে বর্তমানে সেখানে ৭ শতাধীক নারী এই সমিতির মাধ্যমে সুফল ভোগ করছেন।২০০০ সালে এই সমিতি মহিলা বিষয়ক ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কতৃক রেজিস্ট্রিশন লাভ করেন।পরে ২০১২-১৩ সালে সরকারি এডিবি এর অর্থায়নে টিনশেড এর একটি ঘর নির্মাণ করে সংস্হাটি পরে জেলা পার্বত্য পরিষদের অর্থায়ণে তিনতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মিত হয়।সেখানে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে সমাজের অবহেলিত নারীদের বিভিন্ন ভাবে প্রশিক্ষিত করে সাবলম্বী করে দেখিয়েছেন আলোর পথ।এই সমস্ত কার্যক্রম এখনো চলমান।

  রুমায় ৬ নিরীহ আদিবাসী অপহৃত

ফাতেমা পারুল স্বপ্ন দেখেন নারী বান্ধব সুন্দর একটা বাংলাদেশের।যেখানে নারী পুরুষে সমতা থাকবে।পুরুষ নারীর কাজে বাধা হয়ে নয় সহায়তার হাত বাড়াবে।বন্ধ হবে নারী নির্যাতন,সমাজ হয়ে উঠবে ধর্ষণ মুক্ত।রাতবিরেতে নারীদের চলাচলে কোন প্রকার বিঘ্ন ঘঠবে না।প্রতিটি নারী যেনো তার পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেন।অর্থভাবে কোন মেয়ে শিশু ঝড়ে য়াবেনা স্কুল থেকে।বন্ধ হবে বাল্য বিবাহ,যৌতুক প্রথা।

সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাস এর প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় বসে নেই মানবতাবাদী এই নারী। প্রতিনিয়ত ছুটে যাচ্ছেন লামা উপজেলার প্রতিটা পাড়া,মহল্লা, গ্রামে।সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি কর্মহীন ও অসহায় হয়ে পড়া মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচী অব্যাহত রেখেছেন।

তিনি এই সমস্ত কাজে সফলতার কৃতিত্ব দিতে চান বীর মুক্তিযোদ্ধা পিতা নুরুল হক ও স্বামী আনসার ব্যাটালিয়নের অবঃ কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ কে।তিনি মনে করেন পারিবারিক ভাবে সমর্থণ না পেলে মানুষের কল্যণে কাজ করাটা বেশ কঠিন হয়ে পরে।

পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তার রাজনৈতিক অভিভাবক পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি’র প্রতি।তিনি বলেন তার অকুন্ঠ সর্মথন, পরামর্শ ও সঠিক নির্দেশনা আমাকে আজ এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

এছাড়া ও পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈ হ্লা ও লামা উপজেলা আওয়ামীলীগ পরিবারের সকলের সহায়তার কথা অকপটে স্বীকার করে তাদের প্রতি ও বিনম্র চিত্তে কৃতজ্ঞতা জানান।

সব শেষে তিনি বলেন,যেদিন থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছি তখন থেকে নিজেকে লামা উপজেলার জনগণের জন্য উৎস্বর্গ করে দিয়েছি।

এলাকার অসহায়, দরিদ্র, অসচ্ছল, বিধবা,স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের কাছে ভরসা ও নির্ভরতার একজন অন্যতম প্রতীক তাদের প্রিয় ফাতেমা আপা।

আমাদের বাণী ডট/২১  মে ২০২০/পিবিএ 

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •