বাবা-মা অসুস্থ। তাই ভালো ঘরে বিয়ের স্বপ্ন দেখতেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বের হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে পাত্র খোঁজা হচ্ছিল। তাই প্রিয়াংকা সরকারের চাওয়া ছিল তাকে যেন ভালো ঘরে বিয়ে দেয়া হয়, যাতে তিনি বাবা-মাকে দেখাশোনা করতে পারেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী প্রিয়াংকা সরকারের জীবনের গল্পটা অন্যরকম হতে পারতো। তবে তার আগেই একটি ভয়ংকর ভুল একটি পরিবারকে এলোমেলো করে দিয়েছে। মাস্টার্স পাশ করে এতো ম্যাচুরিটি আসার পরেও তিনি আত্মহত্যা করেছেন এটা পরিবারের কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

প্রিয়াংকার বোন সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা বর্ণালী সাহা জানান, প্রিয়াঙ্কা লেখাপড়ায় ছিলো বেশ ভালো। নাট্যজগৎসহ সাংস্কৃতিক জগতে ছিল তার বিচরণ। তবে কোথাও গেলে বাবা, মা অথবা বোনদের কাউকে সাথে নিয়ে যেতো। একা কোথাও যেতো না। তিন বোনের মধ্যে পিয়াঙ্কা ছিল মেঝো। আড়াই মাস আগে শিক্ষকা হিসেবে চাকরি হয় সদর উপজেলার পিপুলবাড়িয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। তিনি আরো জানান, আমরা তিন বোন নিজেদের মধ্যে ছিলাম বেশ খোলামেলা। নিজেদের ভালোমন্দ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হতো। আমাদের বাবা-মা দুজনেই অসুস্থ। প্রিয়াংকার একটাই ভাবনা ছিল কি করে অসুস্থ বাবা-মাকে ভালো রাখা যায়।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি প্রিয়াংকার মতামত নিয়েই পরিবার থেকে ওর বিয়ের জন্য পাত্র খোঁজা হচ্ছিল। ও শুধু বলতো ভালো ঘরে বিয়ে দিও, অসুস্থ্য বাবা-মায়ের পাশে যেন দাঁড়াতে পারি। এসময় তিনি এ ঘটনার সাথে প্রেম সংক্রান্ত কোন বিষয় জড়িত নয় বলে দাবি করেন। তবে-স্বভাবগতভাবে প্রিয়াংকা ছিলো অভিমানী, জেদি ও রাগী।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন জন্মদিনে উইশ না করায় আত্মহত্যা করেছেন প্রিয়াংকা। তিনি সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার গোশলা রোডের বলরাম সাহার মেয়ে। মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে নিহতের পরিবারের কাছ লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। ওই দিন রাতেই ঘুরকা মহাশ্মসান ঘাটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

প্রিয়াংকা সাহার বাবা বলরাম সাহা ও মা বন্দনা সাহা জানান, ২২ এপ্রিল সোমবার ছিল প্রিয়াংকার জন্মদিন। ওইদিন বিকেলে প্রিয়াংকা কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে দুপুরের খাবার খেয়ে তার বান্ধবীদের সাথে মোবাইলে জন্মদিন নিয়ে কথা বলছিল। এসময় তারা মেয়ের কাছে নিশ্চিৎ হন ওইদিন প্রিয়াংকার জন্মদিন। এসময় প্রিয়াংকা তাদের উদ্দেশ্য করে বলে, তোমরা আমার বাবা-মা, আর তোমরাই আমার জন্মদিনের কথা ভুলে গেলে! তবে এ মন্তব্য করার পরও প্রিয়াংকা সবার সাথে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলছিল। রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রিয়াংকা নিজের শুতে যায়। এর কিছুক্ষণ পর মা বন্দনা সাহা প্রিয়াংকাকে রাতের খাবার খেতে ডাকাডাকি করেন। এসময় প্রিয়াংকার কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি ছোট মেয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের ছাত্রী অন্তরা সাহাকে বিষয়টি জানান। পরে অন্তরা তার বোন প্রিয়াংকাকে মোবাইল করলেও তা রিসিভ করেনি। সকালে নাস্তা করার জন্য পরিবারের সদস্যরা প্রিয়াংকাকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু প্রিয়াঙ্কার কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে প্রতিবেশীদের ডেকে এনে দরজা ভেঙে প্রিয়াংকাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রিয়াংকার লাশ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেয়। ময়না তদন্ত শেষে সন্ধ্যায় প্রিয়াংকার লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে রাতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

[wpdevart_like_box profile_id=”https://www.facebook.com/amaderbanicom-284130558933259/” connections=”show” width=”300″ height=”550″ header=”small” cover_photo=”show” locale=”en_US”]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।