Shadow

বৈষম্যের যাঁতাকলে প্রাথমিকের ডিপিএড

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা;  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন নেপ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এর মাধ্যমে ডিপিএড ডিগ্রী প্রদান করে। ডিপিএড করতে সময় লাগে লাগে ১বছর ৬ মাস। ডিপিএড এর পূর্ণ অর্থ হচ্ছে ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন যা পুর্বে ছিল সর্টিফিকেট ইন এডুকেশন।

আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন টিচার্স ট্রেনিং কলেজের বিএড ডিগ্রীর পূর্বের মেয়াদকাল ১০/ ১১ মাস ছিল,এখন ১২ মাস করা হয়েছে। উন্মুক্ত বিশ্ববদ্যালয়ের অধীনে দূর প্রশিক্ষণের বিএড ডিগ্রি অর্জন করতে সময় লাগে ১বছর ৬ মাস।

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক যখন কর্মে যোগদান করেন তার বিএড করা থাকুক বা না থাকুক তিনি দশম গ্রেড প্রাপ্ত হন। একই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে আসা প্রধান শিক্ষকগণও ১১ হাজার ৩০০ টাকা বেতন স্কেল অর্থাৎ পে কমিশনের দ্বাদশ গ্রেডে যোগদান করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিএড অর্জন না করলেও দশম গ্রেড প্রাপ্ত হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান শিক্ষক ডিপিএড ডিগ্রী অর্জন করার পরে একাদশ গ্রেডে বেতন প্রাপ্ত হন।

সবচাইতে মজার ব্যাপার হচ্ছে ৩৪ তম বিসিএস-এ মেধার প্রথমদিকে যারা ছিলেন তারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করে ১২ তম গ্রেড পেয়েছেন অন্যদিকে মেধায় অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা শিক্ষকগণ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরবর্তীতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে দশম গ্রেডের চাকরি করছেন।

অর্থাৎ ৩৪ তম বিসিএস এর কম মেধাবী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বেতন পাচ্ছেন দশম গ্রেড অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত মেধাবী ডিপিএড বিহীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেতন পাচ্ছেন জাতীয় বেতন স্কেলের ১২ তম ধাপে।

উল্লেখ্য ৩৪ তম বিসিএসের মেধাক্রমে প্রথমদিকে যারা ছিলেন তাদেরকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয় এবং যারা অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে ছিলেন তাদেরকে পরবর্তীতে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

এসএসসি পাস করার পরে একজন কৃষি ডিপ্লোমাধারী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দশম গ্রেড লাভ করেছেন। এসএসসি পাশ করার পরে ডিপ্লোমা অর্জন কারী সিনিয়র স্টাফ নার্স দশম গ্রেড অর্জন করেছেন। কিন্তু স্নাতকোত্তর পাস ৩৪ তম বিসিএস থেকে নন ক্যাডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করার পরেও তিনি ১২ তম গ্রেডে চাকরি করছেন।

  প্রাথমিকের সময়সূচী সকাল ১০ টা থেকে ৩ টার দাবিতে সচিবের সঙ্গে আলোচনা বসছে শিক্ষকরা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগদান করার বর্তমান শর্ত হচ্ছে চাকরিপ্রার্থীকে অবশ্যই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে, অথবা প্রার্থী যদি স্নাতক পাস হন তাহলে তাকে দুই বছরের প্রকৃত শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এসএসসি পাস করার পরে ডিপ্লোমা ডিগ্রী অর্জন করে দশম গ্রেড পেয়ে গেলেন অনেকে।কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্নাতকোত্তর ডিগ্রি/বিসিএস নন ক্যাডার/ ডিপিএড ডিগ্রী অর্জন করার পরেও জাতীয় বেতন স্কেল এর ১১ তম ধাপে নিয়োগ প্রাপ্ত হচ্ছেন।

স্বাধীন বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অধীনে নিয়োগ পেয়ে বিএড ডিগ্রী ছাড়াই একজন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সসহকারী শিক্ষক দশম গ্রেড পান।

তাহলে প্রশ্ন উঠছে, ডিপিএড ডিগ্রী কে আসলে ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন নয়?

একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বললেন, ডিপিএড ডিগ্রীর আসলে তেমন কোন মূল্য নেই। কৃষি ডিপ্লোমা ভর্তি হলে শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট করতে হয় এবং অনেক বিষয় জানতে হয়। যদিও এসএসসি পাশ করার পরে তিন বছরের কোর্স সমাপ্ত করার পরে কৃষি ডিপ্লোমা অর্জন করতে হয় তথাপিও এই কৃষি ডিপ্লোমা অর্জনকারী পূর্বকার ব্লক সুপারভাইজার গণ এখন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা যারা বেতন পাচ্ছেন দশম গ্রেডে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে ডিপিএড ডিগ্রি আসলেই কি কোন ডিপ্লোমা ডিগ্রি? এই ডিগ্রী আসলেই কী অকেজো ও মূল্যহীন? এই ডিপ্লোমা ডিগ্রি মূল্যহীন হওয়ার কারণেই কী তার বিপরীতে কোন স্কেল প্রাপ্তির সম্ভাবনা থাকেনা? বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তা অর্থাৎ নীতিনির্ধারকগণের ভাবনা চিন্তা করা সময়ের দাবি। অভিভাবক যদি সঠিক সিদ্ধান্ত না দিতে পারেন তাহলে সে অভিভাবকের উপর অধস্তনের আস্থা কমে যাওয়াই স্বাভাবিক।

আমাদের বাণী ডট/১৪ মে ২০২০/পিবিএ 

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •