নিজস্ব সংবাদদাতা, চাঁদপুর; শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার।   আর এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি নির্দেশনাও দিয়ে দিয়েছেন।নতুন যে কারিকুলাম হচ্ছে তাতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ভিন্ন কোনো বিভাগ থাকবে না। আর এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনাও দিয়ে দিয়েছেন। সে অনুযায়ী কারিকুলাম পরিমার্জন কাজ চলছে। নতুন কারিকুলাম যখন থেকে বাস্তবায়িত হবে তখন থেকে একাদশ শ্রেণির আগে আর কোনো বিভাগ থাকবে না।’শিক্ষার্থীরা পছন্দ অনুযায়ী তার বিষয় নির্ধারণ করতে পারবে। ফলাফল ও মূল্যায়নে সমতা আনতে তিনটি গুচ্ছ ভিত্তিতে সব বিষয় ভাগ করা হবে। এতে একজন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্তরে সব বিষয়ে জ্ঞান লাভ করবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে গিয়ে আবার বিভাগ পছন্দ করতে পারবে তারা। শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের নিয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশের আলোকে এসব সিদ্ধান্ত আগামী ২০২৪ সাল থেকে বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার

আজ বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ ২০২০)  দুপুরের দিকে চাঁদপুর সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নোট বই, গাইড বই যেগুলো চলার কথা নয়, সেগুলো আর থাকবে না। এগুলো কেনার জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। তবে ৩৩ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে নজরদারি করা সম্ভব নয়। এ জন্য মিডিয়াসহ সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে ১০টি অভিন্ন বই পড়ানো হবে। এরপর একাদশ শ্রেণিতে গিয়ে শাখা পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হবে। বর্তমানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কিছু অভিন্ন বই পড়তে হয় এবং নবম শ্রেণিতে গিয়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—এসব শাখায় ভাগ হয়ে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত যে ১০টি বই পড়ানো হবে, সেগুলো হলো বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সামাজিক বিজ্ঞান, জীবন ও জীবিকা, ধর্ম, স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি। বর্তমানে এসব শ্রেণিতে ১২ থেকে ১৪টি বই পড়ানো হয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক বই থাকতে পারে। কারণ সারা বিশ্বে সহায়ক বইয়ের প্রচলন আছে। তবে তা অনুমোদিত হতে হবে। শিক্ষা আইন প্রনীত হলেই এ নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না।’

এর আগে মন্ত্রী শহরের পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজ এবং চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এ সময় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের বাণী ডট কম/ ০৫ মার্চ ২০২০/ইএ 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।